লন্ডনের ওয়েম্বলিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। ম্যাচটিতে ২-০ ব্যবধানে জয়ে শিরোপা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
ম্যাচের ১৩তম মিনিটে রিয়ালকে বিপদে ফেলতে পারত ডর্টমুন্ড। কিন্তু জুলিয়ান ব্র্যান্ড প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁকায় বল পেলেও তা শট নিতে দেরি করেন। রিয়ালের এক ডিফেন্ডার বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি। বল চলে যায় বেশ বাইরে দিয়ে।
.png)
এরপর মধ্যমাঠের বলের দখল নেয়ার চেষ্টায় থাকে রিয়াল। সুযোগের খোঁজে থাকে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। ২১তম মিনিটে অবশ্য আরেকবার সুযোগ পায় ডর্টমুন্ড। কিন্তু এবার থিবো কোর্তোয়াকে একা পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেনি করিম আদেয়েমি।
দুই মিনিট পর আবারো রক্ষা পায় রিয়াল। এবার তাদের বাঁচিয়েছে গোলপোস্ট। কামাভিঙ্গার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দারুণ পাস বাড়ান ম্যাটসেন।
বিরতি থেকে ফিরেই ডর্টমুন্ডের রক্ষণ কাঁপায় রিয়াল। ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে টনি ক্রুসের কর্নারের দূরের পোস্টে দারুণ হেডে জাল খুঁজে নিয়ে রিয়াল সমর্থকদের স্বস্তি এনে দেন কার্ভাহাল। আর ৮৩তম মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে রিয়ালকে শিরোপার আনন্দে ভাসান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
এই প্রতিযোগিতায় সাফল্যের বিচারে রিয়াল মাদ্রিদ চলে গেল ধরাছোঁয়ার বাইরে। সবশেষ ১০ বছরে ছয়বার ফাইনাল খেলে সবক’টি ফাইনালই জিতল রিয়াল। আর সবমিলিয়ে এটি ১৫তম শিরোপা। তাদের পেছনে থাকা এসি মিলান জিতেছে সাতবার। তাদের থেকেও দ্বিগুনের বেশি শিরোপা রিয়ালের।
একনজরে দেখে নিন রিয়াল ও তাদের কোচ-ফুটবলারদের গড়া কীর্তিগুলো-
১। ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতায় এই প্রথম অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো রিয়াল। আগের ১৪টি শিরোপা জয়ের পথে অন্তত একটি ম্যাচ হলেও তারা হেরেছিল।
২। ষষ্ঠবারের মতো ফাইনালের ডাগআউটে থাকা আনচেলত্তি কোচ হিসেবে জিতলেন রেকর্ড পঞ্চম শিরোপা। কোচ হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তিনটি করে শিরোপা রয়েছে পেপ গার্দিওলা, বব পেইসলি ও জিনেদিন জিদানের।
৩। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড় হিসেবে এতদিন এককভাবে সবচেয়ে সফল ছিলেন প্রয়াত স্প্যানিশ ফুটবলার পাকো হেন্তো। তিনি রিয়ালের জার্সিতে টানা পাঁচটিসহ মোট ছয়টি শিরোপা জিতেছিলেন। এবার তার রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন চারজন— লুকা মদ্রিচ, টনি ক্রুস, দানি কারভাহাল ও অধিনায়ক নাচো ফার্নান্দেজ।
৪। ক্রোয়েশিয়ান মদ্রিচ এবং দুই স্প্যানিশ কারভাহাল ও নাচো তাদের ছয়টি শিরোপার সবকটি জিতলেন রিয়ালেরই হয়ে। তবে ক্লাবের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলতে নামা জার্মান ক্রুস রিয়ালের পক্ষে স্বাদ নিলেন পঞ্চম শিরোপার। বাকিটি তিনি জিতেছিলেন ২০১২-১৩ মৌসুমে। সেবার এই ওয়েম্বলিতে ডর্টমুন্ডকেই হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ।