সোমবার মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে গড়াবে কোপার ফাইনাল। আপাতত ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন এই ম্যাচেই। কারণ, কোপা শেষেই আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখবেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। আর ক্যারিয়ারের শেষ কোপায় নামবেন লিওনেল মেসিও। স্বাভাবিকভাবেই সবার নজর এখন লাতিনের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চেই।
তবে মজার ব্যাপার হলো- মাঠে দুই আলাদা দেশের লড়াই হলেও ডাগআউটে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই আর্জেন্টাইন কোচ। অবাক হলেও এটাই সত্যি। কারণ, টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ডাগআউটের দায়িত্বে আছেন লিওনেল স্কালোনি। অন্যদিকে উড়ন্ত কলম্বিয়াকে পেছন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেসি ও স্কালোনিকে কোচিং করানো নেস্টর লরেঞ্জো। তার অধীনেই এখন পর্যন্ত ১৮ ম্যাচ অপরাজিত কলম্বিয়ানরা।
.png)
সাফল্যের ঝুড়ি ভারি স্কালোনির
আর্জেন্টাইনদের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সুখের সাগরে ভাসছেন লিওনেল স্কালোনি। তিনি বললে ভুল হবে, তার মাস্টারস্ট্রোকে ফেডারেশনসহ পুরো জাতি আনন্দের সাগরে ডুব দিচ্ছে। কারণ, স্কালোনির দায়িত্ব নেয়ার পরপরই বদলে গেছে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুম। পেয়েছে দলীয় সাফল্য।
২০১৬ সালে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ শুরু করেন স্কালোনি। এর বছর দুয়েক পর যুবাদের ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ পান। তবে একই বছরে অর্থাৎ ২০১৮ সালে সিনিয়র দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। মূলত রাশিয়া বিশ্বকাপে দল ব্যর্থ হওয়ার পরই আর্জেন্টাইনদের দায়িত্ব ভার ওঠে তার কাঁধে।
আলবিসেলেস্তেদের দায়িত্ব নেয়ার তিন বছরের মাথায় ২০২১ সালে দলকে কোপা আমেরিকা জেতান স্কালোনি। এরপর ২০২২ সালের জুনে দ্য ফিনালিসিমা শিরোপা এবং একই বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ব ফুটবলের মসদনে বসে আকাশী-সাদারা। এরপর থেকেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন মেসি-ডি মারিয়ারা।
চলমান কোপা আমেরিকায় অপরাজিত দল হিসেবে ফাইনালে পা রেখেছে আর্জেন্টিনা। এবারের আসরে শিরোপা জিততে পারলে অনন্য রেকর্ড গড়বে তারা। মূলত ফাইনাল জিতলে টানা তিনটি আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়বে স্কালোনির শিষ্যরা। কারণ, দুইবার মহাদেশীয় শিরোপা এবং এক বিশ্বকাপ জেতার কীর্তি গড়তে পারেনি লাতিনের কালজয়ী কোনো দল। আর এ সবকিছুই হচ্ছে মাস্টারমাইন্ড স্কালোনির অধীনে পারফর্ম করেই।
অনন্য কীর্তির সামনে দাঁড়িয়ে স্কালোনি নিশ্চয় চাইবেন না, তীরে এসে তরী ডোবাতে। তাই ফাইনালের মঞ্চে শিষ্যদের দিয়ে লাতিনের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের ছক কষবেন এই আর্জেন্টাইন। অবশ্য তার এই পথে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারেন তারই সাবেক গুরু লরেঞ্জো।
অভিজ্ঞতায় এগিয়ে লরেঞ্জো
এবারের কোপায় দাপুটে ফুটবল খেলে যোগ্য দল হিসেবে শিরোপা মঞ্চে পৌঁছেছে কলম্বিয়া। মাঠের পারফরম্যান্সে রদ্রিগেজ-দিয়াজরা উজ্জ্বল থাকলেও, ডাগআউট থেকে কলকাঠি নাড়ছেন নেস্টর লরেঞ্জো। যিনি আর্জেন্টিনার সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ। তার অধীনে কলম্বিয়ানরা ২৮টি ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার সতীর্থ হয়ে ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিলেন লরেঞ্জো। যদিও শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল তাদের। সোভিয়েত ইউনিয়ন, ক্যামেরুন ও জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ খেলেন। এরপর আর কখনো জাতীয় দলের জার্সি পরার সুযোগ হয়নি এই আর্জেন্টাইনের।
লরেঞ্জোর কোচিং অধ্যায় শুরু হয় আরেক সাবেক আর্জেন্টাইন কোচ হোসে পেকারম্যানের হাত ধরে। তবে তার আগে ২০০০ সালে তিনি আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচিং স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন।
লরেঞ্জোর কাঁধে প্রথম বড় দায়িত্ব আসে ২০০৬ সালে। আর্জেন্টিনার তৎকালীন কোচ হোসে পেকারম্যানের কোচিং প্যানেলে যুক্ত হন তিনি। বিশ্বকাপেও তারা ছিলেন। সেই বিশ্বকাপেই প্রথম খেলেছিলেন লিওনেল মেসি। দলটির স্কোয়াডে ছিলেন বর্তমান আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও। লরেঞ্জোর মত স্কালোনিরও জার্সি নম্বর ছিল ১৩।
২০২২ সালের জুন মাসে কলম্বিয়ার জাতীয় দলের দায়িত্বে আসেন নেস্টর। এরপর থেকেই যেন বদলে যেতে শুরু করে কলম্বিয়া দলটি। টানা ২৮টি ম্যাচ অপরাজিত থাকার এই দৌড়ে তারা অপরাজিত থেকেছে জার্মানি, স্পেন, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মত দলের বিপক্ষে।
তাই বলা যায়, নেস্টরের দর্শন ও কলম্বিয়াকে একসঙ্গে হারানোটা বেশ কঠিনই হবে আর্জেন্টিনার।