টেস্ট ও টি-২০ সিরিজ খেলতে বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দেশ ছাড়ার আগে বিসিবির পডকাস্ট হোম অব ক্রিকেটে হাজির হয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ। নানা বিষয়ে তারা আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন।
অনূর্ধ্ব-১৫ থেকেই শান্ত ও মিরাজের একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল। বন্ধুত্বটা দুজনের মাঝে তাই বেশ ভালোই বলা চলে। মাঠে খেলা চলাকালীন নানা ঘটনার কথা তাদের কথাতেই উঠে এসেছে। এসবের মাঝে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) নেয়ার বিষয়ে মিরাজ কীভাবে টাইগার অধিনায়ককে রাজি করিয়ে ফেলেন, সেই প্রসঙ্গটাও তাদের গল্পের মাঝে ছিল।
.png)
বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচ যারা নিয়মিত দেখেন, তারা সকলেই অবগত রিভিউ নেয়ার ক্ষেত্রে মিরাজের অন্য সবার চেয়ে থাকে অতি আগ্রহ। বোলিং বা ব্যাটিংয়ের সময় তো বটেই, ফিল্ডিংয়েও থাকা অবস্থায় রিভিউ নিতে এই অলরাউন্ডার সবার চেয়ে এগিয়ে থাকেন। আম্পায়ার কোনো কারণে আবেদনে সাড়া না দিলেও মিরাজ যেন রিভিউ নেয়ার জন্য তৈরিই থাকেন। অধিনায়ক হিসেবে শান্ত তাকে উপেক্ষা করতে পারেন না।
রিভিউ নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে আমি যদি রিভিউ নেই আর যদি ভুলও হয়, তারপরেও ও (শান্ত) আমাকে বিশ্বাস করে। আমি কিন্তু সফলও হয়েছি। শ্রীলংকা সিরিজে আমি কিন্তু চান্দিমালকে রিভিউ নিয়ে আউট করেছিলাম।’
মিরাজ অবশ্য রিভিউ চাইলে তাকে মানা করতে হয় ব্যাপারটা এমন নয় বলেই জানালেন শান্ত। তার ভাষ্য, ‘স্বাভাবিকভাবে যেটা হয়, বোলারদের একটা আবেগ তৈরি হয় ঐ সময়। কারণ তারা সারাদিন বল করেছে। একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। ঐটা হারাতে চায় না। এরকমও অনেক সময় হয়, মনে হচ্ছে আউট না। দেখা গেল পরে আউট। এরকম জায়গায় দ্বিধা তৈরি হয়।’
‘মজার ব্যাপার হলো ওর ঐ বিশ্বাসটা থাকে। আর ও রাজি করিয়ে ফেলে। ও যেটা বললো, সফলও হয়। আমাদের উপমহাদেশে একটু কঠিন উইকেটের কারণে। খেয়াল করে দেখবেন, আমি রিভিউ নেই শেষ সেকেন্ডে বা দুই সেকেন্ড আছে সেই সময়ে। চিন্তা করে নেই। দেখা যায় যে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা রিভিউ। তবে উদ্দেশ্য তো ভালো থাকে।’
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক অবশ্য আরেকটি তথ্যও সবাইকে জানান। শুধু মিরাজ নয়, অন্যান্য বোলাররাও রিভিউ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন। এ বিষয়ে তার মন্তব্য, ‘এই জিনিসটায় (রিভিউ) যখন সফল হয় না তখন অনেক সময় কিন্তু ভালো পরিবেশ তৈরি করে। অনেক সময় দেখা যায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আবার অনেক সময় দেখা যায় এটা নিয়ে হাসি ঠাট্টা হচ্ছে। আমার তো ভালোই লাগে।’