ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]
ফিরে দেখা ২০২৪

স্মৃতির রেখায় যেসব তারকা ক্রিকেটার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:৪৫, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪
স্মৃতির রেখায় যেসব তারকা ক্রিকেটার
ছবি: ক্যালেন্ডারের পাতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেট মিস করবে যাদের

ক্রিকেট শুধু ব্যাট-বলের খেলা নায়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জন্মভূমি, আবেগ ও ভালোবাসা। প্রতিবছর যেমন নতুন নতুন প্রতিভার অভিষেক হচ্ছে, বিদায়ও নিচ্ছে তারকারা। কেউ কেউ গোধূলি লগ্নে এসে ব্যাট-প্যাড উঠিয়ে রাখছে তো কেউ কেউ আবার ক্রিকেটীয় বিভিন্ন সংস্করণ থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন নিজেকে। এই তালিকায় আছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তাদের সঙ্গে আছেন জেমস অ্যান্ডারনসন, ডেভিড ওয়ার্নার, টিম সাউদি, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার মতো তারকাদের নামও। 

নতুন বছরে পদার্পণ করার আগে ২০২৪ সালের গোধূলি লগ্নে এসে ব্যাট-প্যাড উঠিয়ে রাখা তারকাদের চলুন দেখে নেই এক নজরে- 

সাকিব আল হাসান (টি-২০) 
বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। যার অলরাউন্ডার নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়ে আছে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। চলতি বছর জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। তবে ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেট খেলবেন। সাকিব আল হাসান টেস্টে ৪ হাজারের বেশি রান করেছেন এবং উইকেট নিয়েছেন ২৪০টি। টি-২০তে তিনি ২২৫১ রান করেছেন এবং উইকেট নিয়েছেন ১৪৯টি ।

Advertisement

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (টি-২০)
বাংলাদেশের সাইলেন্ট কিলার অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। চলতি বছরের আক্টোবরে টি-২০ ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। মাহমুদুল্লাহ ১৪১টি টি-২০ ম্যাচ খেলে রান করেছে ২৪৪৪। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তার। এছাড়া টি-২০তে ৪০ উইকেটও নিয়েছে তিনি।

জেমস অ্যান্ডারনসন (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট)
ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার জেমস অ্যান্ডারসন। এবছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে লর্ডস টেস্টের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তিনি। অ্যান্ডারসন টেস্ট ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হিসেবে তার বর্ণাঢ্য কেরিয়ারের সমাপ্তি ঘটান। মুথাইয়া মুরলীধরন এবং শেন ওয়ার্নের পরেই রয়েছে তার নাম। তিনি ১৮৮টি টেস্ট ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৭০৪ উইকেট।

ডেভিড ওয়ার্নার (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট)
বছরের শুরুতে ডেভিড ওয়ার্নারই প্রথম অবসরের কথা ঘোষণা করেন। সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টেস্টের পরই ক্রিকেটকে বিদায় জানান তিনি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান ১১২টি টেস্ট, ১৬১টি ওয়ানডে এবং ১১০টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন। সমস্ত ফরম্যাট মিলিয়ে তিনি ১৮,৯৯৫ রান সংগ্রহ করেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে ২৬টি সেঞ্চুরি করেন তিনি। ২২টি ওডিআই সেঞ্চুরি করেন। এছাড়া টি-২০ ম্যাচে তার সেঞ্চুরি আছে ১টি।

টিম সাউদি (টেস্ট)
এবছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ শেষ হওয়ার পর টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানান নিউজিল্যান্ডের পেসার টিম সাউদি। তিনি কিউয়িদের হয়ে ১০৭ টেস্ট খেলে ৩০.২৬ গড়ে ৩৯১টি উইকেট নিয়েছেন।

রবিচন্দ্রন অশ্বিন (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট)
ভারতের অলরাউন্ডার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার চলতি বর্ডার গাভাসকর ট্রফির তৃতীয় টেস্টের শেষে হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন। রবিচন্দ্রন অশ্বিন আন্তর্জতিক ক্রিকেটে ভারতের হয়ে ২৮৭ ম্যাচে মোট ৭৬৫টি উইকেট নিয়েছেন। এর মধ্যে ৫৩৭টি উইকেট নিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটে। ভারতীয়দের মধ্যে পরিসংখ্যানে অনিল কুম্বলের (৬১৯ উইকেট) পরেই রয়েছে তার নাম।

বিরাট কোহলি, রবীন্দ্র জাদেজা এবং রোহিত শর্মা (টি-২০)
২০২৪ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ভারতের তরকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলি, রবীন্দ্র জাদেজা এবং রোহিত শর্মা।

বিশ্বকাপ ট্রফি নেওয়ার সময় নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করেন বিরাট। ভারতের হয়ে ১২৫টি টি-২০ ম্যাচ খেলে রান করেছেন ৪১৮৮। তার ব্যাটিং গড় ৪৮.৬৯। ২০১৪ এবং ২০১৬ টি-২০ বিশ্বকাপের প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে রোহিত শর্মা ভারতের হয়ে ১৫৯টি টি-২০ ম্যাচে ৪২৩১ রান করেছেন। জাদেজারও এই ফরম্যাটে অনবদ্য রেকর্ড রয়েছে। তিনি ভারতের হয়ে ৭৪টি টি-২০ ম্যাচে ৫১৫ রান করেছেন এবং ৫৪ উইকেট নিয়েছেন। 

শিখর ধাওয়ান (সব ধরণের ক্রিকেট)
২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেছিলেন শিখর ধাওয়ান। এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান টেস্টে ২,৩১৫, ওয়ানডেতে ৬,৭৯৩ এবং টি-২০তে ১,৫৭৯ রান করেছেন। এর মধ্যে ১৭টি ওডিআই সেঞ্চুরি এবং ৭টি টেস্ট সেঞ্চুরি রয়েছে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য বিখ্যাত ছিলেন ধাওয়ান।  ২০১৩ এবং ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দুরন্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন তিনি।

দীনেশ কার্তিক (সব ধরণের ক্রিকেট)
২০২৪ সালের আইপিএল শেষ হওয়ার কয়েকদিন পরেই অবসরের কথা ঘোষণা করেন ভারতীয় ক্রিকেটার দীনেশ কার্তিক। একটি আবেগপূর্ণ ইনস্টাগ্রাম পোস্টের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানিয়েছিলেন। ক্রিকেট কেরিয়ারে কার্তিক ভারতের হয়ে ২৬টি টেস্ট, ৯৪টি ওয়ানডে এবং ৬০টি টি-২০ ম্যাচে খেলেছেন। 

ডেভিড মালান (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট)
ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় ডেভিড মালান। যিনি টি-২০ ফরম্যাটের ১ নম্বর ব্যাটসম্যান হয়ে ছিলেন। ৩টি আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে তার সেঞ্চুরি আছে। ২০১৭ সালে ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন তার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮টি সেঞ্চুরি ও ৩২টি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে এই ক্রিকেটারের।

শ্যানন গ্যাব্রিয়েল (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট)
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই পেসার গ্যাব্রিয়েল ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৫৯টি টেস্ট, ২৫টি ওয়ানডে এবং দুটি টি-২০ ম্যাচ খেলে ২০২টি উইকেট নেন। 

মইন আলি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট)
ইংল্যান্ডের এই অলরাউন্ডার ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেন। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া মইন ৬৬৭৮ আন্তর্জাতিক রান করেছেন। এছাড়াও তিনি ৩৬৬টি উইকেটও নিয়েছিলেন। মইন ২০১৯ ওডিআই বিশ্বকাপ এবং ২০২২ টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন।

নিল ওয়াগনার (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট)
নিল ওয়াগনার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের ঠিক আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেন। তিনি টেস্টে নিউজিল্যান্ডের পঞ্চম-সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হিসেবে তার ক্যারিয়ার শেষ করেন। ২৬৭টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ওয়াগনার ৬৪টি টেস্ট খেলেছেন, যার মধ্যে ৩২টি জিতেছেন এবং সেই জয়গুলিতে ২২-এর অসাধারণ গড়ে ১৪৩টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ওয়াগনার ২০২১-র বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী কিউয়ি দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।

ইমাদ ওয়াসিম এবং মহম্মদ আমির (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট) 
পাকিস্তানের ইমাদ ওয়াসিম এবং মহম্মদ আমির। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাদের অবসরের কথা ঘোষণা করেন। ইমাদ পাকিস্তানের হয়ে ৫৫টি ওয়ানডে এবং ৭৫টি টি-২০ খেলেছেন। তিনি ১৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১,৫৪০ রান করেছেন এবং ১১৭ উইকেট নিয়েছেন। 

অন্যদিকে আমির পাকিস্তানের হয়ে ৩৬টি টেস্ট, ৬১টি ওয়ানডে এবং ৬২টি টি-২০ খেলেছেন। তিনি ২৭১টি আন্তর্জাতিক উইকেট নিয়েছেন এবং সমস্ত ফরম্যাট মিলিয়ে ১,১৭৯ রান করেছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!