ঢাকা,  রোববার   ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

[ শিল্প ও সাহিত্য ]

পুতুল নাচের ইতিকথা

(লেখক: মানিক বন্দোপাধ্যায়, প্রকাশকাল: ১৯৩৬)
সাইফুল হক
প্রকাশিত: ১৪:৫৯, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
পুতুল নাচের ইতিকথা
ফাইল ফটো

বাংলা উপন্যাসে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাসের চেয়ে দুর্দান্ত শুরু আর কোন উপন্যাসে নেই। হুমায়ূন আহমেদের মতো অনেকে মানিকের পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের চেয়েও পুতুল নাচের ইতিকথা-কে এগিয়ে রেখেছেন।

পুতুলনাচের ইতিকথা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা তৃতীয় উপন্যাস এবং চতুর্থ মুদ্রিত গ্রন্থ। উপন্যাসটি ভারতবর্ষ পত্রিকায় বাংলা ১৩৪১ সালের পৌষ থেকে ১৩৪২ সালের অগ্রহায়ণ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৩৬ সালে এটি বই আকারে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটিতে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাজতান্ত্রিক  মানসিকতার পরিচয় মেলে।

উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র গ্রামের ডাক্তার শশী। ঈশ্বরের প্রতি তার বিশ্বাস নেই। গ্রামের পটভূমিতে শশী, শশীর পিতা, কুসুম-সহ অন্যান্য চরিত্রগুলোর মাঝে বিদ্যমান জটিল সামাজিক সম্পর্ক নিয়েই গড়ে উঠেছে উপন্যাসটির কাহিনী ও প্রেক্ষাপট। ক্ষয়িষ্ণু সমাজের প্রেম, বিরহ, দ্বেষ ও পারস্পরিক সহমর্মিতা কে উপজীব্য করে লেখা এই উপন্যাস বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

একজন তরুণ লেখক হিসাবে মানিকের ভাষার উপর যে দখল তা শুধু বিরলই নয় সম্ভবত অদ্বিতীয়। মাত্র ২৯ বছর বয়সে বিক্রমপুর অনন্য কৃতীসন্তান মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় যে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন তার শারিরীক অসুস্থতায় তার পূর্ণতা পায়নি। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ মে (১৩১৫ বঙ্গাব্দের ৬ জ্যৈষ্ঠ) বিহারের সাওতাল পরগনা, বর্তমান ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দুমকা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে ৷ জন্মপত্রিকায় তার নাম রাখা হয়েছিল অধরচন্দ্র। তার পিতার দেওয়া নাম ছিল প্রবোধকুমার আর ডাকনাম মানিক। তার পিতার নাম হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা নীরদাসুন্দরী দেবী। চৌদ্দ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন অষ্টম। পিতা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তদনীন্তন ঢাকা জেলার সেটেলমেন্ট বিভাগের সাব-রেজিস্টার। পিতার বদলির চাকরির সূত্রে মানিকের শৈশব-কৈশোর ও ছাত্রজীবন অতিবাহিত হয়েছে বাংলা-বিহার-ওড়িষার দুমকা, আরা, সাসারাম, কলকাতা, বারাসাত, বাঁকুড়া, তমলুক, কাঁথি, মহিষাদল, গুইগাদা, শালবনি, নন্দীগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল প্রভৃতি শহরে। তার মা নীরদাসুন্দরীর আদিনিবাস ছিল পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরের গাউদিয়া গ্রামে।

(লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহীত)

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!