ছোট্ট একটা গাছ বেড়ে উঠেছে পুকুরের মধ্যে, পার্কের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে অনুরাধা চক্রবর্তী এবং কাকলি আহসান গাছটিকে দেখছে। চোখ থেকে অনুরাধার এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো জলাশয়ের জলে।
প্রতিদিনের মতো আজ সকাল পাঁচটায় কাকলি এবং অনুরাধা হাঁটতে এসেছে পার্কে। তারা দুজন পাশাপাশি দুটো ফ্লাটে বাস করে। অনেকদিন ধরে তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব। দুজনার বয়স পঁচিশ এর কোঠায়।
.png)
-এভাবে কেঁদো না অনু!
-কি করবো বলো, গতকাল রাতে বারোটায় সমীর অফিস থেকে বাসায় ফিরলো, আর এসে বলল এক্ষুনি বাসা থেকে বের হয়ে যাও। আর যদি বাসায় থাকতে হয় আমি আমার ইচ্ছামতো চলবো সেটাকে সাপোর্ট করতে হবে।
অনুরাধার স্বামী সমীর চক্রবর্ত্তী, একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা। বিয়ের প্রথম দুই বছর পর তাদের একটি মেয়ে সন্তান হয়। যার বয়স এখন ছয় বছর। জীবনের শুরুতে তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও প্রেম ছিল। এরপর সমীর অফিসের কাজে বিভিন্ন জেলা শহরে যাওয়া শুরু করে। ধীরে ধীরে তার কিছু খারাপ বন্ধু তৈরি হয়। যারা একটা নেশার জগতের সঙ্গে সমীরের পরিচয় করিয়ে দেয়। সে মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। অফিস থেকে ফিরে সামান্য কিছুতেই ঝগড়া শুরু করে দেয় সে। স্ত্রী অনুরাধা এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলেই তাকে শুরু করে দেয় মার, চুলের মুঠি ধরে টেনে বাসা থেকে বহুবার বের করে দেয়। তার মেয়ে পরীর জন্য সংসারটি ভেঙে যেতে যেতেও জোড়া লাগে।
তাদের পাশের ফ্ল্যাটে থাকে কাকলি। তাদের সংসারটি সুখী হলেও কোনো সন্তান নেই। তার স্বামী তাকে বুঝতে পারলেও মাঝে মাঝে গ্রাম থেকে এসে তার শাশুড়ি খুব ঝগড়া করে তার সাথে। তারা স্বামী স্ত্রীর দুজন সিদ্ধান্ত নিয়েছে একটি সন্তান দত্তক নেবে।
আজ সমীর অফিস থেকে বাসায় ফিরে খুব মারধর করতে লাগলো অনুরাধাকে। ছোট্ট পরী খাটের নিচে গিয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখলো, তার ছোট কবুতরের মতো বুকটা ধড়ফড় করছিল। বেশ কিছুক্ষণ পর অনুরাধা কে মারধর করা বন্ধ করে দেয় সমীর ।পরী খাটের নিচে ঘুমিয়ে পড়লো।
সকালবেলা কাকলি হাঁটতে বের হয়েছে। সে গতকালকে অনুরাধার বাসা থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পেয়েছে। তাই সকালবেলায় অনুরাধা কে ডাকতে গেলো না।
পার্কের পুকুরের ধারে অনেক মানুষের ভিড়। সবার সঙ্গে কাকলিও সেখানে গিয়ে উঁকি দিল।
পুকুরের মধ্যে গাছটার পাশে ভেসে উঠেছে অনুরাধার মৃতদেহ। অনুরাধার স্বামীকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে পুলিশ। পরী রয়ে গেল কাকলির কাছে।