রেললাইনগুলো সোজা সামনের দিকে চলে গেছে। সারি সারি পাহাড়ের পাশ দিয়ে।এতটাই সোজা যে, মনে হচ্ছে রুলার দিয়ে টানা হয়েছে। অনেকদূরে ঘন সবুজ উপবন। এক টুকরো কোঁকড়ানো কাগজের মতো দেখতে। প্রখর সূর্যের নীচে রেললাইনগুলোকে উজ্জ্বল ও ধূসর দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে এই দৃশ্যপট চিরন্তন ও অপরিবর্তনীয়। এভাবেই এগিয়ে যাবে পরিবর্তনহীনভাবে। যতদূরেই তা যাক না কেন। পরিবর্তনহীনতার এই চিন্তা আমাকে হতাশ করল। এরকম হলে তো আমার প্রাত্যহিকের পাতাল রেলই ভালো।
সিগারেট শেষ করে আকাশের দিকে তাকালাম। অনেকক্ষণ আমি আকাশের দিকে তাকাইনি। অনেক সময় পার হয়ে গেলেও আমার দৃষ্টি কোথাও স্থির হয়নি। আকাশে কোনো মেঘ নেই। কুয়াশার একটা অস্পষ্ট অবগুণ্ঠন আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে। বসন্তকালের মতো। কুয়াশার ভেতর দিয়ে সূর্যের আলো ঝরে পড়ছে। অধরা হালকা ঝিল্লির মতো। মিহি ধূলার মতো সেগুলো মাটিতে পড়ে জড়ো হচ্ছে। সবার অলক্ষ্যে।
.png)
হালকা গরম বাতাস। আলো কাঁপছে। অলস বাতাস বইছে। যেমনভাবে পাখিরা এক গাছ হতে অন্য গাছে যায়। দল বেধে। বাতাসের সেই প্রবাহ রেললাইনের ধারের জঙ্গলাকীর্ণ ঢালু দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এবং রেললাইন পেরিয়ে উপবনের মধ্যে ঢুকছে। কোনোরকম আলোড়ন সৃষ্টি করা ছাড়াই। একটা কোকিলের তীক্ষ্ণ চিৎকার দূর পাহাড়ের পেছনে হারিয়ে গেল। ঢেউখেলানো পাহাড়গুলোকে দেখতে মনে হচ্ছে দৈত্যের মতো। বিশালাকার। ঘুমন্ত বিড়ালের মতো কুঁকড়ে শুয়ে আছে সময়ের উষ্ণ জলাশয়ে।