কুয়ার তলায় আর্তনাদ
কোটি টাকার গাড়িতে যারা চড়ে
ছেলের জন্য বউয়ের জন্য
আলাদা আলাদা গাড়ি
তাদের জন্যও অনেকটা যানজট
তারাই আবার জ্যামে পড়ে তাকায় কটমট!
ঢাকায় তিন-তিনটা প্রশস্ত বাড়ি
এক বাড়িতে বছরে অন্তত দু’বার সিঁড়ি ভেঙে
নিত্য-নতুন ডিজাইনে সিঁড়ি বানিয়ে পা রাখে কেউ কেউ
বাথরুমের টাইলসও ছ’মাসে বদলানো হয়
চিকিৎসা-সেবা নিতে ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর
ছুটি কাটানোর জন্য খুঁজে নেয় স্বপ্নপুর!
তারা এত পয়সা কোথায় পায়?
মহান মার্কস তোমাকে বলতে হবে না—
যদিও একথা জানতে গিয়ে তুমিও হারিয়েছো স্বজন
কষ্টকর পরিস্থিতিতে!
এই উদ্বৃত্ত টাকা যাদের ঘামে আসে
তারাও তা জানে
ধিকি ধিকি বেঁচে থাকা প্রাণে,
পাঁচমাইল-ছ’মাইল হেঁটে কারখানায় ছোটে
পয়সা নেই উঠবে পাবলিক বাসে!
যে মেয়েটি উঠতি বয়সি স্বপ্ন দেখার তাপে
নিজেকে ভরিয়ে তুলতে চাইছে —
সে-ও বন্দি হয়েছে শ্রমের খাপে!
কখনো কখনো অসুখ ও অনাহারে
খুপড়িতে অসহায় হয়ে কাঁপে!
আবার যখন চিত্তদাহ নিয়ে তারা রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে
দেনা-পাওনার হিসেবটা মাপে—
শেষের নিঃশ্বাস বাঁচাতে হাঁসফাঁস অবস্থা থেকে খানিকটা নড়ে
তখন ষড়যন্ত্রের কটুগন্ধ কারো কারো নাকে এসে লাগে!
মনে হয় শৃগালেরা তখন এক-রা করে জাগে!
পোশাকের স্তূপ থেকে ধূপ জ্বালিয়ে জ্বালিয়ে
শিল্প তৈরি হয়!
বৈদেশিক মুদ্রার চকচকে এপিঠ-ওপিঠ দেখে
বাহবা দেয় সরকারের কর্তাব্যক্তি ও অর্থনীতিকেরা
আহলাদী ভাষায় এইসব শ্রমজীবীদের ‘সোনার টুকরো’ বলা হয়
কিন্তু তারা কি জানে না—
কার কতটুকু হাড়ের ক্ষয়?
কার অশ্রুপাত!
কার কষ্টরাত!
কার জন্য তৈরি হয় মৃত্যুফাঁদ!
কুয়ার তলায় চলে যায় কার আর্তনাদ?