ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বইমেলা ]

চীনা ভাষা, সাংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ছড়িয়ে দিতে বইমেলায় ‘চায়না বুক হাউস’

ঢাবি প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৬:৩৭, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
চীনা ভাষা, সাংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ছড়িয়ে দিতে বইমেলায় ‘চায়না বুক হাউস’
ছবি: ‘চায়না বুক হাউস’

চীনা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রচার এবং প্রসারে বইমেলায় বাংলাদেশ চীনা দূতাবাসের ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে স্থান পেয়েছে ‘চায়না বুক হাউস’। যেখানে মিলবে চীনের ইতিহাস-ঐতিহ্য-ভাষা-সংস্কৃতি নিয়ে নানা ধরনের বই। এসব বই অত্যন্ত সুলভ মূল্যে একজন ক্রেতা কিনতে পারবে।

রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বইমেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের ৭৯১ ও ৭৯২ নম্বর দুই ইউনিটের ‘চায়না বুক হাউস’ এর স্টল। পুরো স্টল জুড়ে বাহারি লাল রঙয়ে সেজেছে। জানা যায়, চীনদের কাছে লাল একটি শুভ রঙ। এছাড়া চীনা সংস্কৃতিতে প্রতিটি বছর একটি প্রাণীকে শুভ প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। চলতি বছর শুভ প্রাণী হিসেবে ধরা প্রাণীটি হলো ড্রাগন। এবছর চীনা ড্রাগন বছর হওয়াতে স্টল জুড়ে ছিল কৃত্রিম ড্রাগন, যা বইয়ের মাঝে অনেকটাই দৃষ্টি নন্দন হয়ে ফুটে উঠেছে। এছাড়া বাহারি চীনা কৃত্রিম ফুল যেন সৌন্দর্যে পালে বাড়তি হাওয়া যুক্ত করেছে।

এই স্টলের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বাপ্পি শেখের সঙ্গে কথা হয় ডেইলি বাংলাদেশের। তিনি বলেন, প্রতিটি দেশি চায় তাদের ভাষা-সংস্কৃতি-ইতিহাস-ঐতিহ্য বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক। সকলেই এক ধরনের ভাষিক সাম্রাজ্য সারা বিশ্বজুড়ে তোলার ইচ্ছা পোষণ করে। যার ফলে বিশৃব জুড়ে ওই দেশের ভাষা-ইতিহাস-ঐতিহ্যের একটা আলাদা গুরুত্ব থাকে। বর্তমানে চীনও সারা বিশ্বে সব দিক দিয়েই এগোচ্ছে, তাছাড়া চীনের ভাষা-ইতিহাস-ঐতিহ্য অনেক সমৃদ্ধ। এটি ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াসে মেলাতে ‘চায়না বুক হাউস’।

Advertisement

তিনি আরো বলেন, এখানে যেসব বই রয়েছে একটিও বাংলাদেশের না। সব চীন থেকে আনা, সেখাকার বিভিন্ন পাবলিশার্সের বই। এই স্টলে চীনা ইতিহাস-ঐতিহ্য-ভাষা-সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে।

ছবি: বইমেলায় ‘চায়না বুক হাউস’বাহিরের বই সব সময়ই দেশের বইয়ের তুলনায় দাম অনেক বেশি। কিন্তু মেলা উপলক্ষে তাদের বই ক্রয়ে একটি অনেক বড় ছাড় দিচ্ছল চায়না বুক হাউস। স্টলটির আরেক বিক্রয় কর্মী তানজিন আরা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সবাই যেন বইগুলো কিনতে পারে সেজন্য আমরা বিশেষ ছাড় দিচ্ছি। আপনারা জানেন যে চীনা ১ ইউয়ান বাংলাদের ১৬ টাকা। আমরা মেলা উপলক্ষে ১ ইউয়ান সমান ৬ টাকাতে কনভার্ট করে বই বিক্রি করছি। এমন উদ্যোগ বিশেষ করে যারা বাহিরের দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার ভীষণ আগ্রহী তাদের জন্য চায়না বুক হাউসের বইগুলো স্বল্পমূল্যে কেনার একটি অনেক বড় সুযোগ। 

বইয়ের সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিন আমাদের স্টলে নতুন নতুন বই আসছে। সব মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা খুবই কঠিন, তবে সব মিলিয়ে শতাধিক বইয়ের কালেকশন আমাদের রয়েছে। 

মেলা উপলক্ষে কেমন সাড়া পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তানজিন আরা বলেন, বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। এছাড়া বিশেষত অনুবাদের জন্য আমাদের বইগুলো পাঠক বেশি কিনছেন। আশা করি সামনের দিনগুলোতে আমাদের বিক্রি আরো বেড়ে যাবে।

উল্লেখ্য, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি ইউনিট অর্থাৎ মোট ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৯৩৭টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৭টি (একাডেমি প্রাঙ্গণে ১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি) প্যাভিলিয়ন রয়েছে। সব মিলিয়ে অংশ নিয়েছে ৬৩৫টি প্রকশনা প্রতিষ্ঠান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!