মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ‘অমর একুশে বইমেলা’র ২১তম দিনে বিকেলেই বই মেলায় ইংরেজি শব্দার্থের বই বোনাসসহ বেশ কয়েকটি বই নিয়ে হাজির হন টিপু সুলতান। টিপু আসা মাত্রই মেলায় আগত উৎসুক লোকজন তাকে ঘিরে ধরে এবং সেলফি তোলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একজনকে ডিঙিয়ে আরেক জন, এতে মেলার পরিবেশ ঠিক রাখতে তিক্ত হয়ে বেরিয়ে যেতে থাকলে উৎসুক লোকজনও তার পিছু নিতে থাকে। এভাবে চলে যান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট পর্যন্ত। সেখানে ঘণ্টা খানেক অবস্থান উৎসুক লোকজনের সঙ্গে সেলফি তুলে চলে যান টিপু। তবে এসময় জুড়ে তাকে কোনো বই বিক্রি করতে দেখা যায়নি এবং কেউ বই কিনেওনি। সেলফি তুলে সটকে পড়ে সবাই।
বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জুড়ে এমনটিই দেখা যায়। এসময় উৎসুক লোকজন দুয়ো ধ্বনি দিয়ে মশকরাও করতে থাকেন।
.png)
এদিকে বই না নিয়ে সেলফি তুলেছেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে আসা আসিফ। তিনি বলেন, তাকে ফেসবুকে অনেক দেখেছি। আজকে তার সঙ্গে সেলফি তুলতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।
শুধু সেলফি কেন বই কেন কেনা হলো না এমন প্রশ্নের জবাবে মুচকি হেঁসে , ‘পরে কিনব’— বলে চলে যান আসিফ।

ইমরান হোসেন নামে আরেকজন বলেন, তার একটা বই আমার আছে। বেশ ভালো বই। তার সঙ্গে ছবি তুলতে পেরে ভালো লাগছে।
বই কিনলেন না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে হেসে তিনি বলেন, ‘আগে ঐ বইটি পড়েই শেষ করি।’
এদিকে টিপু সুলতান সাংবাদিকদের বলেন, আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। অনেক পাঠক-দর্শনার্থীতে, কেউ ছবি তুলছেন কাউকে বা অটোগ্রাফ দিচ্ছিলাম। অনেক হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন মাথা ধরছে, তাই এখন আমি বাসা চলে যাবো এখন।
এর আগে তিনি বলেন, আমি টিপু সুলতান বলেছিলাম মেলায় দুই লক্ষ লোক আনব কিন্তু এরও বেশি এসেছে। মেট্রোরেল যেন এবার মেলাতে এতো লোক সমাগমে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
প্রসঙ্গত, এবারের একুশে বইমেলাসহ অনেক জায়গায় মাইকিং করে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার বই ‘বোনাস’ বিক্রি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হন টিপু সুলতান। বইমেলায় ঘুরতে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের ইংরেজি বানান এবং বাংলা অর্থ জিজ্ঞেস করে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম বই ‘রেলপথে বাংলাদেশ’ এবং ২০২০ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘বোনাস’ নামে আরেকটি বই। সবমিলিয়ে তিনি চারের অধিক বই লিখেছেন যেগুলো ইংরেজি ও বাংলা শব্দ কেন্দ্রিক বই। এছাড়া ইংরেজি স্পিকিং শেখার বইয়ের রচয়িতাও আলোচিত এই টিপু সুলতান।