২৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকার হিসাব দিলো জাকসু: কী বলছে অডিট রিপোর্ট?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ২০২৫-২৬ মেয়াদের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে কোনো গরমিল বা অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে অডিট কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অনুদান তহবিল থেকে পাওয়া মোট ২৩ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৩ টাকার শতভাগ হিসাব সংরক্ষিত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অডিট কার্যক্রম শেষে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ মেয়াদে জাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ১০টি কিস্তিতে ১৬ লাখ ৩৭৩ টাকা ৯৪ পয়সা এবং বিভিন্ন ইভেন্ট ও কর্মসূচির জন্য অনুদান তহবিল থেকে আরও ৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
.png)
অডিট কমিটির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব অর্থ শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, সংস্কৃতি চর্চা ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়েছে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্যাশ রেজিস্টার এবং ব্যয়ের বিল-ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ ও মেডিকেল সরঞ্জাম বিতরণে ২ লাখ ৩৪ হাজার ২০ টাকা, জাকসু জব ফেয়ারে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৪৪ টাকা, জাকসুর সাময়িকী ‘জাগরণ’ প্রকাশে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮০ টাকা এবং জাকসু পালা উৎসবে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘স্মৃতিতে জুলাই’ কর্মসূচিতে ৭৬ হাজার ৭৭৫ টাকা, জাকসু প্রতীকী রানে ৭০ হাজার ২২০ টাকা, মে ডে জাকসু রানে ৭৫ হাজার ২৫ টাকা, মেন্টাল হেলথ কাউন্সেলিং ক্যাম্পে ৬২ হাজার ৩৩০ টাকা এবং নারী শিক্ষার্থীদের স্কুটি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ৭ সেপ্টেম্বরের কার্যনির্বাহী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন সদস্যের অডিট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি ছিলেন শহীদ রফিক-জব্বার হলের প্রাধ্যক্ষ ড. আবদুছ সাত্তার। সদস্য ছিলেন শহীদ সালাম-বরকত হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হালিম ও জাকসুর সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আল হাসান।
অডিট কমিটি জানায়, ক্যাশ রেজিস্টার, ব্যয়ের কাগজপত্র ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট মিলিয়ে হিসাব যাচাই করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যয়ের পাতায় জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম ও সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতুর সত্যায়ন স্বাক্ষর রয়েছে।