ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ ক্যাম্পাস ]
নোবিপ্রবিতে ভর্তি প্রস্তুতি

কোন ইউনিটে কত আসন, আবেদনের যোগ্যতা ও সুযোগ-সুবিধা

মো. আমরান হোসাইন, নোবিপ্রবি মো. আমরান হোসাইন, নোবিপ্রবি
প্রকাশিত: ১৩:৫৫, ৩ নভেম্বর ২০২৬
কোন ইউনিটে কত আসন, আবেদনের যোগ্যতা ও সুযোগ-সুবিধা
ফাইল ছবি

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। দেশের অন্যতম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ভর্তির আগ্রহ রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের।

নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষার জন্য নয়, বরং সবুজ ক্যাম্পাস, প্রাকৃতিক পরিবেশ, আবাসিক জীবন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের কারণেও শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয়। প্রতিবছর হাজারো শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।

২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষেও বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ঘিরে ভর্তিচ্ছুদের আগ্রহ রয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হতে হলে শিক্ষার্থীদের গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। পাশাপাশি আবেদনযোগ্যতা, ইউনিটভিত্তিক আসনসংখ্যা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আগেই ধারণা রাখা প্রয়োজন।

আসনসংখ্যা কত?

নোবিপ্রবির ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি অনুষদ ও দুটি ইনস্টিটিউটের অধীনে ৩৩টি বিভাগে মোট আসনসংখ্যা ১ হাজার ৬১১টি। তিনটি ইউনিটের মাধ্যমে এসব আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

ইউনিটভিত্তিক আসনসংখ্যার বিন্যাস হলো—

‘এ’ ইউনিট: বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত এ ইউনিটে রয়েছে ৯৬৩টি আসন। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগ এ ইউনিটের আওতাভুক্ত।

‘বি’ ইউনিট: মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত এ ইউনিটে রয়েছে ৪৭২টি আসন। সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিক, শিক্ষা বিজ্ঞান, আইন এবং তথ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বিভাগগুলো এ ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত।

‘সি’ ইউনিট: ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত এ ইউনিটে রয়েছে ১৭৬টি আসন। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের তিনটি বিভাগে এ ইউনিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

সব মিলিয়ে তিনটি ইউনিটে মোট ১ হাজার ৬১১টি আসন রয়েছে। তবে ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত আসনসংখ্যা ও বিভাগভিত্তিক বিন্যাস জানতে নতুন ভর্তি নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে।

আবেদনের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া

নোবিপ্রবিতে ভর্তির জন্য প্রথমেই প্রয়োজন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষার নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা। কোন শিক্ষার্থী কোন ইউনিটে আবেদন করতে পারবেন, তা নির্ভর করে তাঁর শিক্ষাগত বিভাগ, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটের শর্তের ওপর।

২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.২৫ এবং মোট জিপিএ ৭.০০ থাকতে হয়েছে।

মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ ও মোট জিপিএ ৬.০০ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ ও মোট জিপিএ ৬.২৫ প্রয়োজন ছিল।

২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে আবেদনযোগ্যতা, পাসের সাল ও জিপিএ-সংক্রান্ত শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদনের আগে গুচ্ছ ভর্তি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ নির্দেশিকা দেখে নেওয়া জরুরি।

আবেদনের প্রক্রিয়া: ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্ধারিত ভর্তি ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসির রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা বোর্ড, পাসের সাল ও সচল মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হয়। নির্ধারিত আবেদন ফি জমা দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হয়।

চূড়ান্ত ভর্তির সময়: ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধাতালিকায় স্থান পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মূল সনদ, নম্বরপত্র, প্রবেশপত্র, প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত কাগজপত্র, ছবি ও অন্যান্য নির্ধারিত নথি জমা দিতে হয়।

২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি

২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ইউনিটভিত্তিক পরীক্ষার তারিখ ও সময়—

  • ‘বি’ ইউনিট (মানবিক): ১৯ মার্চ ২০২৭, সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা।

  • ‘সি’ ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষা): ২০ মার্চ ২০২৭, সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা।

  • ‘ডি’ ইউনিট (স্থাপত্য): ২০ মার্চ ২০২৭, বিকেল ৩টা থেকে ৪টা।

  • ‘এ’ ইউনিট (বিজ্ঞান): ২৭ মার্চ ২০২৭, সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা।

ভর্তি পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি, আসনবিন্যাস, প্রবেশপত্র ও ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্ধারিত ভর্তি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার আগে এসব নির্দেশনা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

একাডেমিক ভবন ও শ্রেণিকক্ষ

শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য নোবিপ্রবিতে রয়েছে দুটি একাডেমিক ভবন। এর মধ্যে একটি পাঁচতলা এবং অন্যটি ১০তলা। এসব ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩টি বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে একাডেমিক ভবন দুটির পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবন, অডিটোরিয়াম ও গ্রন্থাগার ভবনেও। শিক্ষার্থীদের জন্য আরও শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগারের সুযোগ তৈরি করতে নির্মাণাধীন রয়েছে তৃতীয় একাডেমিক কাম ল্যাব ভবন। ভবনটি চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের পরিসর আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

আবাসিক হল ও শিক্ষার্থীদের আবাসন

নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য রয়েছে পাঁচটি আবাসিক হল। এগুলো হলো—বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম হল, আবদুল মালেক উকিল হল, হজরত বিবি খাদিজা হল, জুলাই শহীদ স্মৃতি ছাত্রী হল এবং নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল।

আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের থাকার পাশাপাশি পড়াশোনা, সহপাঠীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। হলজীবন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

তবে শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসিক হলের আসনসংখ্যা কম হওয়ায় সবাই হলে থাকার সুযোগ পান না। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকা কিংবা নোয়াখালী শহরে বাসা বা মেস ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

গ্রন্থাগার ও গবেষণার সুযোগ

পাঠ্যবইয়ের বাইরে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার অন্যতম কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রায় ২৬ হাজার ৯৭৭টি বই, ৮৩১টি প্রিন্ট জার্নাল ও ১ হাজার ১৬৪টি ম্যাগাজিন রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ই-বুক ও অনলাইন জার্নাল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীর তুলনায় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের আসনসংখ্যা সীমিত। ফলে পরীক্ষার সময় ও ব্যস্ত সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য আসন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে রয়েছে ব্যবহারিক শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ। বিভাগভিত্তিক গবেষণাগার, সেমিনার ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পান।

চিকিৎসাসেবা

শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নোবিপ্রবিতে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র। ক্যাম্পাসে অসুস্থ হলে শিক্ষার্থীরা এ চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারেন।

বিশেষ করে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসের ভেতরে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে গুরুতর অসুস্থতা কিংবা বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজনে ক্যাম্পাসের বাইরের চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে হতে পারে।

যাতায়াতে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস

শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে নোবিপ্রবির নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীসহ বিভিন্ন নির্ধারিত রুটে চলাচল করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনসেবা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা ও অন্যান্য শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কাজে যাতায়াত সহজ করে। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য এ পরিবহন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাংস্কৃতিক আয়োজন ও অডিটোরিয়াম

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক আয়োজনের অন্যতম কেন্দ্র বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়াম। পাঁচতলা এ অডিটোরিয়ামে প্রায় ১ হাজার দর্শকের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে বিভিন্ন সেমিনার, সম্মেলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

সহশিক্ষা কার্যক্রমে সুযোগ

নোবিপ্রবিতে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারেন।

বিতর্ক, সাংবাদিকতা, সাহিত্যচর্চা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তাঁদের নেতৃত্ব, দলগত কাজ ও যোগাযোগের দক্ষতা গড়ে ওঠে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন শিক্ষার্থীদের নিজেদের আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ করে দেয়। ফলে শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান।

প্রকৃতি ও শিক্ষার মেলবন্ধন

নোবিপ্রবির সবুজ ক্যাম্পাস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। ক্যাম্পাসের ময়না দ্বীপ ও নীলদিঘি ঘিরে গড়ে উঠেছে মনোরম প্রাকৃতিক আবহ। বিশেষ করে শীতকালে অতিথি পাখির আগমনে ময়না দ্বীপের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়।

পাখির কলকাকলি, সবুজের সমারোহ ও জলাশয়ের শান্ত পরিবেশ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যস্ততার মাঝে প্রশান্তি এনে দেয়। ক্যাম্পাসের এসব প্রাকৃতিক স্থান শুধু অবসর কাটানোর জায়গা নয়, বরং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য উপভোগেরও এক অনন্য সুযোগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতা ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আগ্রহ তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে প্রাণিবিদ্যা, পরিবেশবিজ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যবহারিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করে।

উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নতুন অভিজ্ঞতার ঠিকানা

সব মিলিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে একটি সম্ভাবনাময় শিক্ষাঙ্গন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে পড়াশোনার সুযোগ, গ্রন্থাগার, গবেষণাগার, পরিবহন ব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে।

তবে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু আসনসংখ্যা কিংবা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিবেচনা করলেই চলবে না। সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার মান, গবেষণার সুযোগ, আবাসন পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্র সম্পর্কেও ধারণা রাখা জরুরি।

প্রতিবছর হাজারো শিক্ষার্থী নোবিপ্রবিতে পড়াশোনার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়, বরং নতুন অভিজ্ঞতা, বন্ধুত্ব, জ্ঞানচর্চা ও নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার এক সম্ভাবনাময় ঠিকানা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/নোবিপ্রবি/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!