চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বছরে ২২৪ কোটি টাকা গৃহকর পাবে চসিক
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বছরে ২২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা গৃহকর আদায়ের সিদ্ধান্ত পেয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এর আগে বন্দর থেকে বছরে গৃহকর বাবদ মাত্র ৩৫ কোটি টাকা পেত সংস্থাটি। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে চসিকের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে।
সোমবার (২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিভাগীয় কমিশনার এ রায় ঘোষণা করেন।
চসিকের রাজস্ব সার্কেল-৭-এর কর কর্মকর্তা এ কে এম সালাহউদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে গৃহকর বাবদ চসিকের দাবি ছিল ২৬৪ কোটি টাকা। তবে এ পরিমাণ কর দিতে আপত্তি জানিয়ে চসিকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে একাধিকবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ১০৩ পৃষ্ঠার নথি জমা দেওয়ার পর সোমবার চূড়ান্ত শুনানি হয়। শুনানি শেষে বছরে ২২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা গৃহকর নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগে চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বছরে ৪৫ কোটি টাকা গৃহকর নির্ধারিত ছিল। তবে সারচার্জ বাদ দিয়ে চসিক প্রকৃতপক্ষে পেত ৩৫ কোটি টাকা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষকে বছরে ২২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা গৃহকর দিতে হবে।
চসিকের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বন্দরের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। তাই এ বিষয়ে ব্যক্তিগত দুর্বলতারও প্রশ্ন নেই। শেষ পর্যন্ত চসিক তার ন্যায্য পাওনা পাচ্ছে, যা সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে একটি রেকর্ড।
তিনি আরও বলেন, অতিভারী যানবাহন চলাচলের কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষ চসিক এলাকার সড়ক অবকাঠামোর ক্ষতি করছে। তবে এখনো এ ক্ষতির জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়নি। আপাতত হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।