থানার সামনে গায়ে আগুন দেয়া সেই কলেজছাত্রী মারা গেছেন
রাজশাহীতে একটি থানার সামনে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা সেই কলেজছাত্রী মারা গেছেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান তিনি।
ওই ছাত্রীর নাম লিজা রহমান (১৯)। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর শাহ মাখদুম থানা থেকে বেরিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। আগুনে তার শরীরের ৬৩ শতাংশ পুড়ে যায়। ওইদিন রাতেই তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়।
হাসপাতালে নেয়ার সময়ই দগ্ধ কলেজছাত্রী লিজা রহমান জানান, স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
এদিকে, মর্মান্তিক এ ঘটনাটির তদন্ত কাজ শুরু করেছে মানবাধিকার কমিশন। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানায় যায় কমিটি। এ সময় কমিটির প্রধান ও মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক আল মাহমুদ ফয়জুল কবিরের সঙ্গে অপর তিন সদস্য ছিলেন।
তদন্ত দলের প্রধান জানান, পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তারা। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
নিহত কলেজছাত্রী লিজা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রধান পাড়ার আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের পালিত মেয়ে। তিনি রাজশাহী মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। নগরীর পবাপাড়া এলাকার একটি মেসে ভাড়া থাকতেন থাকতেন তিনি। তার স্বামীর নাম সাখাওয়াত হোসেন (১৮), তিনি রাজশাহী সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। থাকেন রাজশাহীতে একটি ছাত্রাবাসে। সাখাওয়াত চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার খান্দুরা এলাকার খোকন আলীর ছেলে।
চলতি বছরের ২০ জানুয়ারিতে প্রেম করে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পর থেকেই নগরীর গাঙপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার করছিলেন লিজা। বিয়ের পর কিছু দিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকলেও পরে কলহ দেখা দেয়।
এ ঘটনার পর থেকে স্বামী সাখাওয়াত পলাতক রয়েছেন।
ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএফ/টিআরএইচ