ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

‘ড্রামে আমার স্ত্রীর লাশ, একসঙ্গে কবর হবে আমাদের’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১:০৭, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯
‘ড্রামে আমার স্ত্রীর লাশ, একসঙ্গে কবর হবে আমাদের’
ছবি: প্রতীকী

রাজধানীর ফকিরাপুলে উদ্ধার হওয়া স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।  ‘ড্রামে আমার স্ত্রীর লাশ, একসঙ্গে কবর হবে আমাদের’ এ কথা লেখা ছিল ওইসব চিরকুটে। 

বৃহস্পতিবার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ডেইলি বাংলাদেশকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। 

এর আগে, গত বুধবার রাতে ফকিরাপুলের কোমর গলির ৫৫ নম্বর বাড়ির ৫ম তলায় বাড়িটির কেয়ারটেকার শহিদুল ইসলাম (৩০) ও তার স্ত্রী মর্জিনার (২৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় শহীদুলকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আর মর্জিনার মরদেহ পাওয়া যায় একটি উল্টানো ড্রামের ভেতর। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।

Advertisement

এ ঘটনায় ওইদিনই মতিঝিল থানায় একটি মামলা হয়। শহিদুলের গ্রামের বাড়ি সিলেটে। আর মর্জিনার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রীকে হত্যার পর গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন স্বামীও। তবে এ ঘটনার পেছনে অন্য কারো হাত আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। 

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের এডিসি মো. এনামুল হক মিঠু বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি চিরকুটসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করেছে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। আশা করছি খুব শিগগিরই রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে। ওই চিরকুটে লেখা ছিলো, ড্রামে আমার স্ত্রীর মরদেহ, একসঙ্গে আমাদের কবর হবে, আমাদের বিয়ে কেউ জানতো না, ইত্যাদি।

পুলিশের মতিঝিল জোনের এসি মো. জাহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রীকে হত্যার পর গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন শহিদুল। এ জন্য পারিবারিক কলহ, পূর্ব শত্রুতা, আর্থিক কলহসহ বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা বলা যাবে।

জানা গেছে, কয়েক মাস আগে পরিবারের সদস্যদের কিছু না জানিয়ে বিয়ে করেন শহিদুল ও মর্জিনা। এরপর থেকে ওই বাসাতেই থাকতেন এই দম্পতি।

এ বিষয়ে ওই ভবনের কর্মচারীরা জানান, যে ভবনটি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তার মালিক যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। পুরো ভবনটি প্রেসের কারখানা। মালিক বিদেশে থাকায় শহিদুল কারখানাগুলো থেকে ভাড়া তুলে যুক্তরাষ্ট্রে তার মালিককে পাঠাতেন। বুধবার রাতে টাংকিতে পানি না থাকায় কর্মচারীরা ছাদে গিয়ে কলাপসিবল গেট বন্ধ পান। অনেক ডাকাডাকির পরেও কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

পরে পুলিশ দরজা ভেঙে শহিদুলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। এরপর একটি ড্রামের ভেতর থেকে মর্জিনার মরদেহ উদ্ধার করে। ড্রামটির মুখ সিমেন্ট দিয়ে আটকানো ছিল বলেও জানান তারা। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!