স্বামী জামাল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাতের খাবার খাওয়ার পরে ইতি খাওয়ার জন্য ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম বের করেন। তখন আইসক্রিম কিছুটা কম দেখলে তিনি স্বামীর কাছে জানতে চান কে খেয়েছে আইসক্রিম। এসব নিয়েই রাতে কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে তর্কাতর্কির পর ইতি বাসা থেকে বেরিয়ে যেতেও চান। তবে স্বামী জামাল তাকে বাধা দেন। এরপর রাত ২টার দিকে জামাল ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তিনি বিছানায় ইতিকে দেখতে পান না।
.png)
পরে বারান্দায় গিয়ে গ্রিলের সঙ্গে পরনের হিজাব দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখেন তাকে। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের ধারণা,পারিবারিক কলহে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। ইতির মৃত্যুকে তার স্বামী আত্মহত্যা বললেও নিহতের ভাই সাংবাদিক হুমায়ুন কবির রোজের এতে সন্দেহ রয়েছে। তার দাবি, ইতিকে হত্যা করা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির রোজ বলেন, আমার বোন মানসিকভাবে খুবই শক্ত ছিল। যে কোনো ধরনের সমস্যাকে সে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে পছন্দ করত। স্বামীর বাড়ির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
তবে বারান্দায় গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার মৃতদেহ হাটুগেড়ে ফ্লোরে বসা ছিল, তাদের পারিবারিক কিছু সমস্যা হচ্ছিল। সবকিছু বিবেচনা করে আমাদের কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না সে আত্মহত্যা করেছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শাশুড়ি দ্বারা তাদের পরিবারের উপরে একটা প্রভাব থাকত। এ জন্য ইতির পরিবারে একটা ঝামেলা হতো। ঘটনার আগের দিনও আমি বোনের সঙ্গে কথা বলেছি। তার মধ্যে কোনো হতাশা ছিল না। লাইফটাকে খুব ইনজয় করছিল। সে আত্মহত্যা করতে পারে না।
জানা গেছে, বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার গণকপাড়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের মেয়ে ইতি। স্বামী মো. জামাল হোসেন ও ছেলে এহসান হোসেন ইজাজকে (৪) সঙ্গে নিয়ে নিকুঞ্জ-২ জামতলা টানপাড়া মতিউর রহমানের দোতলা বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। সাড়ে ৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। আগে চাকরি করলেও বর্তমানে বেকার ছিলেন ইতি। তার স্বামী একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন।
খিলক্ষেত থানার ওসি বোরহান উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তরুণীর আত্মহত্যার খবর পেয়ে শুক্রবার ভোরে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তারা হাসপাতালে আছে।