ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

চারজনের পাহারায় দুই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে ৬ জন 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:৩৯, ৮ জানুয়ারি ২০২২
চারজনের পাহারায় দুই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে ৬ জন 
র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন- ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে দুই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার মূল আসামি সোলায়মান হোসেন ওরফে রিয়াদকে (২২) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। 

র‌্যাব বলছে, গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী ৫নং গাজিরভিটা ইউনিয়নের ডুমনিকুড়া গ্রামের দুই কিশোরী পাশের গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান গিয়েছিল। বাড়ি ফেরার পথে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাদের সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে গ্রেফতার রিয়াদ ও তার সহযোগীরা। ধর্ষণের এ ঘটনায় রিয়াদসহ ছয়জন সরাসরি অংশ নেন। আর চারজন আশপাশে পাহারায় ছিলেন।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

Advertisement

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, এরই মধ্যে ধর্ষণের ঘটনাটি সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রচার হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৪ এর একটি আভিযানিক দল ৮ জানুয়ারি মধ্যরাতে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে আলোচিত ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সোলায়মান হোসেন রিয়াদকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার পর থেকে রিয়াদ একটি মালবাহী ট্রাকে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেন। পরবর্তীতে গফরগাঁওয়ে আত্মগোপন করেন তিনি।

র‌্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক আরো বলেন, ধর্ষণের ঘটনা কাউকে না জানাতে ভোক্তভোগী দুই স্কুলছাত্রীকে হুমকি দেন অভিযুক্তরা। এমনকি ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেন তারা। এ অবস্থায় লোকলজ্জার ভয়ে ও প্রাণনাশের হুমকির ভয়ে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি গোপন রাখে ভুক্তভোগী পরিবার। এরপর গত ৩০ ডিসেম্বর মামলা করে এক ভোক্তভোগী পরিবার ।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার সোলায়মান হোসেন রিয়াদ এলাকায় চিহ্নিত বখাটে হিসেবে পরিচিত। তিনি এলাকায় ১০-১৩ জনের একটি বখাটে দলের নেতৃত্ব দিতেন। তিনি ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে এলাকার স্কুল পড়ুয়া মেয়েরা অতিষ্ঠ। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করারও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। রিয়াদের নামে হালুয়াঘাট থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মাদক চোরাচালান মামলা চলমান রয়েছে। এরই তিনি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ও কারাভোগ করেন। তার সহযোগী অন্যান্য আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।

এজাহারভুক্ত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যায় দুই কিশোরী। রাতে ফেরার পথে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে ভোক্তভোগীদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ২৯ ডিসেম্বর তাদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি জানতে পারেন। এরপর ৩০ ডিসেম্বর এক ভোক্তভোগীর বাবা ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলা নং- ২৪।

আসামিরা হলেন- উপজেলার কচুয়াকুড়া গ্রামের সোলায়মান হোসেন রিয়াদ, মো. শরীফ, এজাহার হোসেন, কাটাবাড়ি গ্রামের রমজান আলী, মো. কাউছার, মো. আছাদুল, শরিফুল ইসলাম, মো. মিজান, মো. রুকন ও মো. মামুন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!