মহসিন খানের আত্মহত্যার ঘটনায় আরো মামলা হতে পারে। তার স্বজনরা বাদী হয়ে মামলা করতে পারেন।
পুলিশ বলছে, পিস্তলটি মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। আর যেহেতু মহসিন খানের মৃত্যু হয়েছে এবং বাসায় কেউ নেই এ কারণে শটগানটি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগতভাবে অস্ত্রের বিষয়ে সুরাহা করা হবে।
.png)
আবু মহসিন খান যাদের মাধ্যমে আর্থিকভাবে প্রতারিত হয়েছেন, তাদের চারজনের নাম-ঠিকানা পেয়েছে পুলিশ। সেসব যাচাই-বাছাই চলছে। কামরুজ্জামান নামে একজনের ঠিকানা সঠিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আত্মহত্যার ঘটনার আগে ঐ বাসায় কারও যাতায়াত ছিল কি-না, তা খাতিয়ে দেখতে বাড়ির সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করছে পুলিশ।
একজন ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে নিজের হতাশার কথা জানিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষকে মনের যত্ন নিতে হবে। মানসিক রোগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
জাতীয় মানসিক ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাধারণত মানুষের কাছে মনে হবে নিঃসঙ্গতা, একাকিত্ব কিংবা প্রতারিত হওয়া হয়তো আত্মহত্যার জন্য মূল দায়ী। কিন্তু না। বিজ্ঞান বলছে, এসবই আত্মহত্যার জন্য মূল দায়ী নয়। মূল দায়ী হচ্ছে, মানসিক স্বাস্থ্যের অযত্ন। অর্থাৎ কারো যদি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে, তিনি যদি মনের যত্ন নেন, যথাসময়ে মানসিক রোগ কিংবা বিষন্নতার চিকিৎসা করান, তাহলে সামজিক অপ্রাপ্তি অন্যায্যতা অথবা সামাজিকভাবে তার যে বঞ্চিত হওয়া- এসব থেকে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। একইসঙ্গে তিনি ঘাত সহনশীল হয়ে উঠতে পারেন।
দীর্ঘদিন ধরে ধানমন্ডির বাসায় একা থাকতেন ব্যবসায়ী মহসিন খান। তার একমাত্র ছেলে থাকে অস্ট্রেলিয়া। স্ত্রীও পাঁচ বছর ধরে ছেলের কাছে রয়েছেন। মেয়ে তিনা ঢাকাতেই থাকেন জামাতা চিত্রনায়ক রিয়াজের সঙ্গে। বুধবার রাতে নিজের বাসায় ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ, অনুশোচনা, নীতি-আদর্শ ও পরিবার এবং সমাজ নিয়ে কথা বলেন মহসিন। হতাশা ব্যক্ত করেন। এরপর মাথায় নিজের নামে লাইসেন্স করা পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন ৫৮ বছরের এই ব্যক্তি। মৃত্যুর আগে সুসাইডাল নোট লিখে যান। মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার ধানমন্ডি থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন মহসিনের জামাতা রিয়াজ।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ঘটনার পর মামলার আলামত হিসেবে পিস্তুলটি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মহসিনের বাসায় যেহেতু আর কেউ থাকে না, তাই শটগান সেখানে রাখা নিরাপদ নয়। এ কারণে শটগানটি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।