১০ মাস আগে রিকশাচালক শাহ আলী তার মেয়েটিকে পুরান ঢাকার বনগ্রাম এলাকায় দুঃসম্পর্কের আত্মীয় আসমা আক্তার নামে এক নারীর বাসায় রেখে যান। এই আসমার মাধ্যমে গৃহকর্মী হিসেবে ওয়ারীর তাহেরবাগ এলাকার মাসুম বিল্লাহ ও আখি দম্পতির বাসায় কাজ পায় শিশুটি। কিন্তু এই কাজই শিশুটির জীবনকে নরক বানিয়ে তোলে, শিকার হয় নির্মম নির্যাতনের।
শুক্রবার দুপুরে নির্যাতনের শিকার এই শিশু গৃহকর্মীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই কথা হয় প্রতিবেদকের সঙ্গে।
.png)
ভুক্তভোগী শিশুটি অভিযোগ করে জানায়, বাসার কাজ দ্রুত করতে না পারায় গৃহকর্ত্রী আখি তাকে সব সময় মারধর করেন। কাঠের মোটা লাঠি ছাড়াও হাতের কাছে যখন যা পেতেন তাই দিয়েই তাকে মারধর করতেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তার (গৃহকর্মীর) গলায় ফাঁস লাগিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন আখি।
শিশুটির অভিযোগ, একসঙ্গে অনেক কাজ করতে বলা হত তাকে। কাজ করে ক্লান্ত হওয়ার পর যদি সে শুয়ে থাকত, সেটি দেখলেও তার ওপর নেমে আসত নির্মম নির্যাতন।
নির্যাতনের শিকার শিশুটির দুঃসম্পর্কের আত্মীয় আসমা আক্তার জানান, ১০ মাস আগে শিশুটিকে মাসুম বিল্লাহ ও আখির বাসায় কাজে দিয়েছিলেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) গৃহকর্ত্রী আখি শিশুটির মাকে ফোন করে জানান, তার মেয়ের (গৃহকর্মীর) ডায়রিয়া হয়েছে। তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গতকাল বিকেলেই তার মা রংপুর থেকে ঢাকায় এসে আখির বাসা থেকে মেয়েটিকে তার (আসমার) বাসায় নিয়ে যান।
আরো পড়ুন> রাজধানীতে অনিবন্ধিত মোবাইলসহ পাঁচজন গ্রেফতার
আসমা বলেন, আজ সকালে তাকে গোসল করানোর সময় মেয়েটির সমস্ত শরীরে ঘা, আঘাত-নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। বিষয়টি জানতে চাইলে মায়ের কাছে নির্যাতনের সমস্ত ঘটনা খুলে বলে মেয়েটি। এরপরই মেয়েটিকে নিয়ে প্রথমে থানায় যাওয়া হয়। সেখান থেকে পুলিশের সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন হাওলাদার জানান, আজ (শুক্রবার) সকালে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা তাকে থানায় নিয়ে আসেন। গৃহকর্ত্রী তাকে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখান থেকে চিকিৎসা শেষে তাকে আবারও থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুটির মা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।