গ্রেফতারকৃত বাকি তিনজন হলো- মো. পারভেজ, মো. তারেক ও মো. শিহাব উদ্দিন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের জালনোট, একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার, একটি পেনড্রাইভ, টাকার পাঞ্চিং এক রোল, জিলেটিং ৫০০ গ্রাম, গালা ৫০০ গ্রাম, স্পিরিট ৬ বোতল ও ফেবিকল আঠা ছয় বোতলসহ জাল টাকা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম।
র্যাব বলছে, সদ্য কৈশোর পেরোনো এই চার তরুণ ইউটিউব ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জাল টাকা তৈরি ও ব্যবসার প্রতি আকৃষ্ট হয়।
.png)
রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা বলেছে, তারা যোগসাজশের মাধ্যমে প্রায় এক বছর ধরে ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় জালনোট তৈরি করে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করত। এছাড়া চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং দোকান, মাছের আড়তসহ জনবহুল এলাকায় জালনোট ব্যবহার করত। চক্রটির অন্যতম হোতা মাউন হোসেন সাব্বির। তার সঙ্গে ১৫-২০ জন সদস্য জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে। তারা কম সময়ে অল্প পুঁজিতে ধনী হওয়ার বাসনায় এভাবে প্রতারণা করছিল।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এ ধরনের জাল টাকা তৈরি ও ব্যবসার প্রতি আকৃষ্ট হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই একটি চক্র আরেকটি চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করত।
তিনি আরো বলেন, চক্রের অন্যতম হোতা মাউন হোসেন সাব্বির ফেসবুকে ‘জাল টাকা প্রতারক চক্রবিরোধী পোস্ট’ নামে একটি গ্রুপের মাধ্যমে কাজ চালাত। তারা মেসেঞ্জারে ‘এক্সম্যান’ নামে একটি গ্রুপ খুলে জাল টাকা তৈরি, ব্যবসার বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান করত। এ গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে শিহাব কাজ করতেন। শিহাবের মাধ্যমে পারভেজ ও তারেকের সঙ্গে মাউনের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে মাউন ইউটিউব, ফেসবুক ও গুগল থেকে বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি জ্ঞান অর্জন করে জালনোট তৈরির জন্য সরঞ্জাম কেনে। মাউন ও তার চক্র ঢাকাসহ সিরাজগঞ্জ, খুলনা, যশোর এলাকায় জাল নোট সরবরাহ করত।
র্যাব বলছে, মাউন ও শিহাব কলেজে স্নাতকোত্তর ও ডিগ্রিতে পড়ছে। পড়াশোনার পাশাপাশি তারা জাল নোটের ব্যবসা করতেন। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।