ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

মোড়ে মোড়ে কোরবানির মাংসের হাট, দাম অর্ধেক

নুরুল করিম
প্রকাশিত: ১৬:৫৯, ২৯ জুন ২০২৩
মোড়ে মোড়ে কোরবানির মাংসের হাট, দাম অর্ধেক
কচুক্ষেত বাজারে কোরবানির মাংস বিক্রি। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সাজেদা আক্তার, বয়স ৪৮। স্বামী পরিত্যক্তা,  গ্রামের বাড়ি জামালপুর। রাজধানীর ভাসানটেক বস্তিতে থাকেন। মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। ঈদের দিনে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেছেন সাজেদা, আবার সেই মাংস এনে বিক্রি করেও দিয়েছেন কচুক্ষেত বাজারে।

‘মানুষ আপনাকে মাংস দিয়েছেন খাওয়ার জন্য, না খেয়ে আপনি বিক্রি করে দিলেন কেন?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে সাজেদা আক্তার বলেন, ‘এবার মাশাআল্লাহ অনেক মাংস পেয়েছি। যেসব বাড়িতে কাজ করি, তারাও অনেক মাংস দিয়েছে। এত মাংস দিয়ে কী করবো, কোথায় রাখবো। তাই বাজারে এনে বিক্রি করে দিচ্ছি, কিছু টাকাও পেলাম।’

রাজধানীর কচুক্ষেত, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে কোরবানির ঈদের দিনে অনেক দরিদ্র, নিম্ন আয়ের মানুষ মাংস সংগ্রহ করে বিক্রি করে এনে সেই মাংস আবার বিক্রি করে দেন। এদের কেউ কেউ অতিরিক্ত মাংস বিক্রি করেন, আবার অনেকে নগদ টাকার অভাবেও এসব মাংস বিক্রি করেন।

Advertisement

ঈদুল আজহা নামাজ আদায়ের পর পরই পশু কোরবানির পর্ব শুরু হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুপুর দেড়টা- দুটা নাগাদ শেষ হয়ে যায় মাংস কাটা আর ভাগবন্টন। এরপর চলে গরিবদের মধ্যে মাংস বিলি। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে তা শেষ হয়। বিলিয়ে দেওয়া মাংস সংগ্রহ করে কিছু অংশ নিজেদের জন্য রেখে একটি শ্রেণি বাদবাকি মাংস বিক্রি করে দেন। নগরীর নানাস্থানে কোরবানির মাংস বিক্রির ক্ষণস্থায়ী এরকম হাট বসতে দেখা যায় ।

এসব হাটে মাংসের ক্রেতা শহরে বসবাসকারী নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরা। রিকশাওয়ালা, টং-দোকানি, খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষ ও যারা কম বেতনে শহরে চাকরিবাকরি করেন তারাই ছিলেন মূল ক্রেতা। এই হাটে মাংস ক্রেতা হিসেবে আরও ছিলেন রাজধানীর বিভিন্ন মেসে ব্যাচেলর হিসেবে যারা থাকেন, তারাও। এছাড়া খাবার হোটেল ব্যবসায়ীদেরও এই হাট থেকে মাংস কিনতে দেখা গেছে।

ঢাকার বাইরের কসাইরাও এই হাটের বিক্রেতা

হিসাব করলে দেখা যায়, কোরবানির গরু কেনা-হাসিল পরিশোধ আর কসাইয়ের মজুরি দেয়ার পর কোরবানির মাংসের মূল্য দাঁড়ায় প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৯০০ টাকা। কোরবানির সেই মাংসই হাত ঘুরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪৫০ টাকা কেজি দরে।

প্রতি বছর কোরবানি শেষে বিকেলের দিকে রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে চোখে পড়ে এসব অস্থায়ী মাংসের হাট। এবারও দেখা গেল সেরকম কিছু চিত্র। শহরের অলিতে-গলিতে অস্থায়ী এ বাজারে খুব কম দামে মাংস বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর মিরপুর, কাফরুল, লিংক রোড, নতুন বাজার, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, জুরাইন রেলগেট, সূত্রাপুর, ধোলাই খাল,মালিবাগ রেলগেট, খিলগাঁও, রামপুরা ব্রিজ, নাখালপাড়া রেললাইনে এ দৃশ্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। মূলত সকাল থেকে ভিক্ষুক এবং গরিব-অসহায় মানুষেরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে যে মাংস সংগ্রহ করেছেন সেটাই তারা এসব স্থানে বিক্রি করছেন।

রাজধানীর মালিবাগ রেলগেটে বিক্রির উদ্দেশ্যে কয়েক ভাগ মাংস সাজিয়ে ফুটপাতে বসে আছেন মৌসুমি কসাই আমান মিয়া। তিনি জানালেন, ‘কোরবানির মাংস কাটার পর নিজের ও তার দলের পাওয়া মাংসের ভাগ একত্রিত করেই বিক্রির জন্যে বসেছেন। বাড়ি কিশোরগঞ্জ হওয়াও মাংস নিতে নিতে নষ্ট হয়ে যাবে, তাই এসব বিক্রি করে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।’

মিরপুর থেকে রাশেদা নামে এক নারী প্লাস্টিকের ব্যাগে পুঁটুলি করা তিন পুঁটলি মাংস কিনেছেন দুই হাজার টাকা দিয়ে। তার বিশ্বাস, মাংস ভালোই হবে। তিনি বলেন, ‘কোরবানি করতে পারিনি। গ্রামের বাড়িতেও যেতে পারিনি; কিন্তু কোরবানির মাংস তো খেতে হবে, তাই এখানে এসেছি।’ শাহেনা বলেন, ‘এখন তো বাজারে মাংস বিক্রি বন্ধ। সে কারণে এখান থেকেই মাংস কিনলাম।’

নগরীর একাধিক মাংসের হাট ঘুরে দেখা যায়, কুরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই, বেশি দাম দিয়ে মাংস কেনারও সামর্থ্য নেই এবং কারো বাড়ি থেকে গোশত চেয়ে নিতে সংকোচ বোধ করেন-এমন লোকজনই কম দামে মাংস কেনার জন্য এসব হাটে আসছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!