ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

এবার পাওয়া গেল মোবাইলের আইএমইআই পাল্টানোর ল্যাব, গ্রেফতার ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:৪০, ২৯ আগস্ট ২০২৩
এবার পাওয়া গেল মোবাইলের আইএমইআই পাল্টানোর ল্যাব, গ্রেফতার ৭
ছবি: সংগৃহীত

গ্রেফতার এড়াতে আইএমইআই পাল্টে চোরাই মোবাইল বাজারে কম দামে বিক্রি করার খবর বেশ পুরনো। এবার মিলেছে মোবাইলের আইএমইআই পাল্টানোর ল্যাবের সন্ধান। যেখান থেকে আইএমইআই পাল্টে দামি মোবাইল বিদেশে পাচার হতো আর তুলনামূলক কমদামি মোবাইলের যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করে দেওয়া হতো।

সম্প্রতি চোরাই মোবাইলের আইএমইআই পাল্টে ফেলা চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. সাইদুল ইসলাম, মো. তৌহিদুল ইসলাম, সোহেল রানা, মো. রানা শেখ, মো. বেলাল হোসেন রাসেল, আমির হোসেন ও মো. রবিন।

এ সময় তাদের আইএমইআই পাল্টানোর ল্যাব থেকে ১টি মাইক্রোসকপি, ১টি কম্পিউটার, ২টি ল্যাপটপ, ১টি মোবাইলের আনলক করার সিএমটু সফটওয়্যার ডিভাইস ও ১টি আইএমইআই পরিবর্তনের সিগমা সফটওয়্যার ডিভাইস, ৪ টি ডাটা ক্যাবল, ১টি পাওয়ার মেশিন, ১টি হিটার মেশিন ও ১টি রাউটার। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ১৯ টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে, এরমধ্যে ৫ টি মোবাইলের প্রকৃত মালিকদের খুঁজে পেয়ে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Advertisement

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২৩ আগস্ট ডিবি পুলিশ যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকা থেকে চোরাই মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনকারী চক্রের সদস্য সাইদুল ও তৌহিদুলকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুলিস্থান ও আশপাশের এলাকা থেকে এই চক্রের সদস্য আরো ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। সাইদুল, তার ভাই পলাতক সাইফুল ও তৌহিদুল দীর্ঘদিন ধরে সিএমটু ও সিগমা সফটওয়্যারের মাধ্যমে কৌশলে চোরাই মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে বিভিন্ন অপরাধীদের অপরাধে সহায়তা করে আসছে।

বাকিরা ঢাকার হাসপাতাল, মসজিদ ও জনবহুল এলাকায় গাড়ি ও রাস্তায় মোবাইল ছিনতাই ও চুরি করে সাইফুল ও তৌহিদুলকে দিয়ে মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন করিয়ে নিতো।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভিন্ন অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারে বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হয়। তবে আইএমইআই পরিবর্তন করা এসব মোবাইলে কোন অপরাধ হলে তাৎক্ষণিক তার পরিচয় জানা সম্ভব হয় না। ফলে এসব মোবাইলগুলো অপরাধীদের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

চক্রটিকে গ্রেফতারের পর তদন্তে দেখা গেছে, একাধিক ফোনের একই আইএমইআই নাম্বার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কোনো একটি মোবাইলে অপরাধ সংগঠিত হলে প্রাথমিকভাবে বিপদে পড়তে পারেন একই আইএমইআই নাম্বারের অন্য ব্যক্তিও।

ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, চক্রটি চোরাই মোবাইলে আইএমইআই বসানোর জন্য র‍্যানডমলি ১৩ সংখ্যার একটি নাম্বার বসিয়ে দিতেন। এরফলে এমনও হতে পারে কোনো ব্যক্তি দোকান থেকে দামি একটা মোবাইল কিনেছেন, তার মোবাইলের আইএমইআই এর সঙ্গে ঐ চক্রের দেওয়া আইএমইআই নাম্বার মিলে গেল। পরবর্তীতে ঐ মোবাইলে কোনো অপরাধ হলে এমন ব্যক্তিও ঝামেলায় পড়ে যেতে পারেন যিনি কোনোভাবেই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না।

ডিবি পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, মোবাইল চুরির পর আইএমইআই নাম্বারই পরিবর্তন করে ফেলা হচ্ছে। এমন একটি চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা আইএমইআই পরিবর্তনের জন্য নিজেরা ল্যাব বানিয়েছে। তারা চোরাই মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন করে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করা এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!