শনিবার ভোরের দিকে এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি কন্যা এবং একটি পুরুষ নবজাতকের মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঁচ সন্তানের জন্ম দেয় আমির উদ্দিন মামুনের স্ত্রী মানসুরা আক্তার। ঐ পাঁচ নবজাতকের মধ্যে একটি ছেলে ও চারটি মেয়ে। এর মধ্যে একটি মেয়ে নবজাতক জন্মের কিছুক্ষণ পরেই মারা যায়। পরে ১৩ অক্টোবর শুক্রবার রাত ১২টার দিকে আরো একটি কন্যা নবজাতক মারা যায়।
.png)
ঢামেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ শিলা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, নবজাতকরা ২৭ সপ্তাহে ভূমিষ্ঠ হওয়ায় তাদের সবারই ওজন কম ছিল এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। তাই তাদেরকে আমরা এনআইসিইউতে অবজারভেশনে রেখেছিলাম।
তিনি আরো বলেন, নরসিংদী থেকে ঐ নারী গত বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেডিকেলের গাইনি বিভাগে ভর্তি হন। এরপর তিনি ৫ নবজাতকের জন্ম দেন। এদের মধ্যে চার মেয়ে ও এক ছেলে নবজাতকের জন্ম দেন তিনি। জন্মের সময় এক কন্যা নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। পরে ১৩ অক্টোবর রাতে মারা যায় আরো এক কন্যা নবজাতক। এরপর আজ ভোরের দিকে মারা যায় আরো দুই নবজাতক। এখন বাকি একটি কন্যা নবজাতক এনআইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। তবে তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। নবজাতকদের জন্ম দেওয়া ঐ নারী ২১০ ওয়ার্ডে অবজারভেশনে আছেন।
ঐ পাঁচ সন্তান জন্ম দেওয়া মানসুরার স্বামী আমির উদ্দিন মামুন বলেন, পেশায় আমি একজন সিএনজিচালক। প্রথমে খুব চিন্তায় ছিলাম এই সন্তানগুলো আমার অভাবের সংসারে কি করে মানুষ করব। তারপর ভেবেছি যা হওয়ার হবে, আল্লাহ চাইলে কষ্ট করে হলেও তাদেরকে মানুষ করব। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমার একে একে চারটি শিশু মারা গেল। আমি শিশুদেরকে আমার গ্রামের বাড়িতে দাফন করেছি। এখন বাকি রয়েছে আর একটি কন্যা নবজাতক। জানি না ঢাকায় গিয়ে তার মুখটা দেখতে পারবো কিনা।