ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]
বেইলি রোডে আগুন

‘আমার বাবারে একবার আইনা দ্যাও, এক মিনিট কথা কইমু’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:০৭, ১ মার্চ ২০২৪
‘আমার বাবারে একবার আইনা দ্যাও, এক মিনিট কথা কইমু’
ছবি: সংগৃহীত

পড়ার খরচ জোগাতে ঢাকায় এসেছিলেন নাঈম, ফিরলেন লাশ হয়ে কথাগুলো বলতে বলতেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন নান্টু মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমার বাবারে (নাঈমকে) আমার কাছে আইনা দ্যাও, আমি আর এক মিনিট আমার বাবার সঙ্গে কথা কইমু।’

একমাত্র ছেলে নাঈমকে হারিয়ে এভাবেই আহাজারি করছিলেন বাবা নান্টু মিয়া। তার আহাজারিতে যেন ভারি হয়ে উঠেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট প্রাঙ্গণ।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে আগুনে নিহতদের মধ্যে নাঈম আহমেদও (২২) রয়েছেন। তার বাবা নান্টু মিয়া পেশায় দিনমজুর। বাড়ি বরগুনার বড় গৌরিচেনা গ্রামে। ছেলেকে হারিয়ে তিনি এখন পাগলপ্রায়। সকালেই বরগুনা থেকে ঢাকায় এসেছেন তিনি।

Advertisement

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের কাছে বিলাপ করছিলেন নান্টু মিয়া। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা (নাঈম) রাত সাড়ে ৯টায় সময় ফোন করছিল। ও বলছিল, ‘বাবা, মার্কেটে আগুন লাগছে। আমরা আটকা পড়ছি, আমাকে উদ্ধার করো।’

নান্টু মিয়া জানান, নাঈম সে সময় তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ভবনের ৭তলার ছাদে আটকা পড়েছেন। তিনি ফোনে নাঈমকে নিচে নামতে নিষেধ করে ছাদের ওপরই থাকতে বলেন। তখনই ফোনটি কেটে যায়। এরপর সারারাত ফোন করলেও নাঈমের ফোনে কল ঢোকেনি।

কথাগুলো বলতে বলতেই আবারো হাউমাউ করে কান্না করে দেন নান্টু মিয়া। বলেন, ‘আমি আমার বাবার সঙ্গে আরেকবার, আরেকটা মিনিট কথা কইতে চাই।’

দুই ভাই-বোনের মধ্যে নাঈম বড়। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির খরচ জোগাতে।

বাবা নান্টু মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে ইন্টার পরীক্ষা দিয়ে অনার্সে ভর্তি হতে চেয়েছিল। আমাকে বলেছিল, বাবা তুমি তো খরচ চালাতে পারবা না। আমি ঢাকায় গিয়ে কাজ করে যে টাকা পাব, সেটা দিয়েই ভর্তি হয়ে যাব। তাহলে তোমার আর কষ্ট হবে না।’

নাঈমের চাচাত ভাই আরিফ বলেন, ঢাকায় এসে নাঈম গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে একটি এটিএম বুথের নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করছিল। সেখান থেকে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বেইলি রোডের আগুন লাগা ঐ ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ নেয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!