ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

টিকটকার তরুণীকে বিয়ে করে যেভাবে সব খোয়ালেন জল্লাদ শাহজাহান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯:৩৮, ১ এপ্রিল ২০২৪
টিকটকার তরুণীকে বিয়ে করে যেভাবে সব খোয়ালেন জল্লাদ শাহজাহান
ছবি: সংগৃহীত

কারাগারে একের পর ফাঁসি কার্যকরে অংশ নিয়ে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া। দীর্ঘ ৪৪ বছর কারাভোগের পর ২০২৩ সালের ২৮ জুন মুক্তি পান তিনি। পরে একটি চায়ের দোকান দিয়ে ফেরেন স্বাভাবিক জীবনে। এ সময় এক টিকটকার তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তা থেকেই বিয়ে। তবে বিয়ে করেই সর্বস্ব হারিয়েছেন তিনি। সাথী আক্তার ফাতেমার আগেও ৫ জায়গায় বিয়ে হয়েছে বলে শুনেছেন শাহজাহান।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জল্লাদ শাহজাহান বলেন, একদিন কেরাণীগঞ্জের কদমতলী সিএনজিতে চড়ে যাওয়ার সময় একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাই। ব্যাগে থাকা কাগজপত্র থেকে পাওয়া ফোন নম্বরে কল করে আমি ব্যাগটি নিয়ে যেতে বলি। ব্যাগের মালিক সাথী আক্তার ফাতেমা, ওরা যে এত বড় একটা প্রতারক চক্র তা আমি জানতাম না। ওদের চক্রে কয়েকজন নারী ও পুরুষ আছে। তারাই বিয়ের সময় সাক্ষী হয়েছে এবং আমার বিরুদ্ধে করা মামলায়ও সাক্ষী হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, ব্যাগ নিতে আসার পর মেয়ে ও তার মায়ের সঙ্গে আমার পরিচয়। পরে মেয়েটির সঙ্গে আমি বেশ কয়েকবার কথা বলি। এক পর্যায়ে মেয়ে ও তার মা জুরাইন থেকে গোলামবাজার চলে আসে। তার মা আমার বাসায় রান্নার কাজ নেন।

Advertisement

শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, পরিচয়ের দেড় মাস পর ২১ ডিসেম্বর ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে সাথীর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। তবে মা-মেয়ে বিয়ের আগেই নানা কৌশলে আমার থেকে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়, আর বিয়ের দিন ১০০ টাকার তিনটি ষ্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর করে আমার গোছানো আরো ১০ লাখ টাকা নেয়। বিয়ের প্রায় দুই মাসের মাথায় আমার স্ত্রী নগদ ৭ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। আমি এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলে তারা নেয়নি। পরে জানতে পারি ১৫ ফেব্রুয়ারি সাথী আক্তার ফাতেমা আমার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামালা করেছে।

প্রসঙ্গত, প্রতারণার অভিযোগে স্ত্রী সাথী আক্তার ফাতেমা ও শাশুড়ি শাহিনুর বেগমসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ৪৪ বছর জেল খেটে ৯ মাস আগে কারামুক্ত হওয়া জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- তার শ্বশুর বাড়ির স্বজন দীন ইসলাম, আজিদা বেগম, রাসেল ও বাবলু।

রোববার ঢাকার এডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রকিবুল হাসানের আদালতে এ মামলা করেন শাহজাহান। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে ২৭ জুন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!