মৃতরা হলেন: খিলগাঁও রিয়াজবাগ এলাকার রিকশার গ্যারেজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া রাকিব (২৫), খিলগাঁও সিপাহীবাগে রাস্তায় জমে থাকা পানির মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া মরিয়ম বেগম (৪৫), যাত্রাবাড়ীতে টিনের প্রাচীর স্পর্শ করে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া লিজা আক্তার (১৬) ও অপরজন বাড্ডার বাসিন্দা। তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মৃত রাকিবকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার সহকর্মী খোকন মিয়া। তিনি জানান, রাকিবের বাড়ি ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায়। তারা খিলগাঁও রিয়াজবাগ ৬ নম্বর গলিতে একটি রিকশার গ্যারেজে থাকেন। ওই এলাকায় তারা রিকশা চালান।
.png)
রাতে বৃষ্টির কারণে তাদের রিকশার গ্যারেজে পানি জমে ছিল। সেই পানির মধ্যে রিকশা রেখে ব্যাটারি চার্জ করছিলেন রাকিব। চার্জার খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি।
মৃত মরিয়মকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশি মো. নাহিদ নামে এক যুবক জানান, রাত ৯টার দিকে খিলগাঁও সিপাহীবাগ আইসক্রিম গলির মক্কা টাওয়ারের পাশে একটি রাস্তায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন মরিয়ম নামে ওই নারী। রাস্তাটিতে বৃষ্টির কারণে হাঁটু সমান পানি জমেছিল।
তাদের ধারণা, সেখানে বিদ্যুতের কোন তার ছিড়ে পড়েছিল বা বৈদ্যুতিক খুঁটি বিদ্যুতায়িত হয়েছিল। আর সেখান থেকেই ওই নারী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
তিনি জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই নারীকে পানিতে পড়ে থাকতে দেখে তিনি এবং স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত গোষণা করেন। একই স্থানে কিছুদিন পরপরই এমন দুর্ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।
জানা গেছে, মরিয়মের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলায়। পরিবার নিয়ে খিলগাঁও মেরাদিয়া কবরস্থান গলিতে থাকেন তিনি। স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। রাতে গার্মেন্টস থেকে বাসায় ফিরেন। এরপর ছেলে ইয়ামিনকে খুঁজতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। এরপরই রাস্তায় এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
অপরদিকে মৃত লিজার পরিবারের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া জানান, লিজার বাবার নাম সিরাজ খান। পরিবারটি থাকে যাত্রাবাড়ীর দরবার শরীফ এলাকায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসার পাশে টিনের প্রাচীর কোনো কারণে স্পর্শ করলে সেখান থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে।
এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসে। চিকিৎসক পরিক্ষা নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।