ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

ট্যানারি শিল্পে নিম্নতম মজুরি চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের আহ্বান 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:০২, ১৩ নভেম্বর ২০২৪
ট্যানারি শিল্পে নিম্নতম মজুরি চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের আহ্বান 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রায় ১৬ মাস পার হয়ে গেলেও ট্যানারি শিল্পের নতুন নিম্নতম মজুরি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অবিলম্বে ন্যূনতম মজুরি চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতারা।   

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর তোপখানায় একটি হোটেলে ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, বাংলাদেশ লেবার রাইটস জার্নালিস্ট ফোরাম ও সলিডারিটি সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান।

ফোরামের সভাপতি কাজী আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে ও সলিডারিটি সেন্টার-বাংলাদেশ এর প্রোগ্রাম অফিসার মো. নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনার মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক। তিনি ট্যানারি শিল্পে ন্যূনতম মজুরি সুপারিশের জন্য গঠিত মজুরি বোর্ড এর ট্যানারি শ্রমিক প্রতিনিধি।  

Advertisement

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সলিডারিটি সেন্টার-বাংলাদেশ এর কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর একেএম নাসিম, হেমায়েতপুর ট্যানারি শিল্প কারখানার শ্রমিকরা। 

মুল বক্তব্যে আব্দুল মালেক বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে গত ২৩ জুলাই ট্যানারি শিল্প সেক্টরের নিম্নতম মজুরি সুপারিশের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। দীর্ঘ প্রায় ১৫মাস ধরে চলমান মজুরি বোর্ড অবশেষে গেজেটের মাধ্যমে ৯ সেপ্টেম্বর খসড়া সুপারিশ প্রকাশ করে। গেজেটে উল্লিখিত আহবানমাফিক কোনো পক্ষ থেকে আপত্তি উত্থাপিত না হওয়ায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বরাবর নিম্নমত মজুরি বোর্ড তাদের সুপারিশ এরইমধ্যেই প্রেরণ করেছে। এরপর উল্লেখযোগ্য আর কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। 

তিনি বলেন, যদিও বাংলাদেশ শ্রম আইন-এর মজুরি সংক্রান্ত একাদশ অধ্যায় এর ধারা ১৩৯ উপধারা ২ মোতাবেক নিম্নতম মজুরির সুপারিশ বোর্ড গঠন হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে সরকারের কাছে পেশ করার কথা, কিন্তু ট্যানারি শিল্পে সুদীর্ঘ ১৬ মাসব্যাপী নতুন নিম্নতম মজুরি চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান। আইন প্রতিপালনের এই ব্যত্যয়ে প্রকৃত ভুক্তভোগী ট্যানারি শিল্পে কর্মরত শ্রমিকরা, যারা এখনো অনিশ্চিত কবে থেকে তাদের নিম্নতম মজুরি বলবৎ হবে। নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণায় অনর্থক বিলম্ব হচ্ছে যা শিল্পের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও কল্যাণে মোটেও কাম্য নয়। 

শ্রমিকদের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অত্যন্ত শোচনীয় জীবন অতিবাহিত করছে ট্যানারি শ্রমিকরা, দুর্বিসহ জীবনের চাপে তাদের হতাশা এখন চরমে। প্রায় প্রতিটি শ্রমিক এখন ঋণগ্রস্ত, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, খাবার ও বাসস্থান খরচ চালাতে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারছে না, জীবনযাপনের ব্যয়ভার বইতে না পেরে পরিবারকে গ্রামে পাঠিয়ে দিতে হচ্ছে, সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ট্যানারি শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের হতাশা এরই মধ্যেই অসন্তোষে রুপ নিতে শুরু করেছে। চলমান প্রেক্ষাপটে এ শিল্পে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে শ্রমিকপক্ষ কোনোভাবেই তার দায় নেবেনা বলে তিনি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে কাজী আব্দুল হান্নান বলেন, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক এই নতুন বাংলাদেশে শ্রমিকদের এমন পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিত। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ট্যানারি শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন আগেও হয়নি, আর এখন না খেয়ে থেকে তাদের পক্ষে আর কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। মজুরি চূড়ান্তকরণে আরো বিলম্ব হলে শ্রমিকরাই সিদ্ধান্ত নেবে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে। মজুরি চূড়ান্তকরণের দায়িত্ব সরকারের, আর বাস্তবায়নে সহযোগীতা করতে ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। 

একেএম নাসিম বলেন, নিম্নতম মজুরি বোর্ড যে সুপারিশ করেছে, তা সকল পক্ষ সর্বসম্মতিক্রমেই একমত হয়েছে। এছাড়াও গেজেটে উল্লিখিত আহবানমাফিক কোনো পক্ষ থেকে আপত্তি উত্থাপিত হয়নি, সুতরাং সুপারিশ পর্যালোচনা করার জন্যও সময় ক্ষেপণ হওয়ার কথা নয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দ্রুত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন, এবং একই সঙ্গে নতুন নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়নে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফিতরের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরেও তিনি জোর দেন। 

হেমায়েতপুরের ট্যানারি কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা বলেন, যে মজুরি এখনো প্রকাশই হয়নি, সেটি যাতে বাস্তবায়ন করতে না হয় সে লক্ষ্যে কারখানার মালিকরা এরইমধ্যেই অভিজ্ঞ শ্রমিকদের ছাঁটাই শুরু করে দিয়েছে। নভেম্বর মাসেই যাতে নতুন নিম্নতম মজুরি চূড়ান্ত ও কার্যকর হয় সেটিই এখন শ্রমিকদের একমাত্র দাবি। গত কয়েক দশকে ট্যানারি শিল্পে কোনো ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি, তবে বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!