ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতাকে মেরে ফেলার হুমকি

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৫০, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতাকে মেরে ফেলার হুমকি
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এক বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি অব্যাহত রাখতে তাকে চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছেন ওই নেতা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মোহাম্মদপুর থানাধীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মান্নান হোসেন শাহীন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশ অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। ওই সময় মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন মহল্লায় পাহারার উদ্যোগ নেন তারা। এ বিষয়ে এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করতে মাইকিংও করা হয়।

শাহীন দাবি করেন, এ ঘটনার জেরে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চাঁদ উদ্যানের ২ নম্বর রোডের শাপলা ভবনের নিচতলায় বাড়ি মালিক কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে তার ওপর হামলা হয়।

তিনি বলেন, “আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৪২টি কোপ দেওয়া হয়। কেটে ফেলা হয় হাত ও পায়ের রগ। ৩৭ দিন আইসিইউতে ছিলাম। সব মিলিয়ে সাত মাস হাসপাতালে কাটিয়ে বাসায় ফিরি।”

শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ না হলেও রাজনীতির প্রতি ভালোবাসা থেকে আবারও মাঠে সক্রিয় হয়েছেন বলে জানান তিনি।

শাহীন বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর কিশোর গ্যাং ও একটি কুচক্রী মহল ফের তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তার দাবি, তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে ওই এলাকায় চাঁদাবাজির সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে—এ কারণেই একটি মহল তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ।

বিএনপির এই নেতা বলেন, জীবনের ঝুঁকি থাকলেও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কোথাও চাঁদাবাজির খবর পেলে তিনি সেখানে গিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।

তিনি জানান, সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে চাঁদ উদ্যানের ৬ নম্বর রোডে সুয়ারেজ লাইনের কাজের জন্য মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। তার অভিযোগ, মো. নান্নু, নুরুল ইসলাম, হান্নান ও সেন্টুসহ ১৫ থেকে ২০ জন ওই চাঁদা দাবির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চাঁদার প্রতিবাদ করায় তারা তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সঙ্গে থাকা জিসান আহমেদ ডান হাতে গুরুতর আঘাত পান। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শাহীন অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাকে চাঁদাবাজ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কাউন্সিলর প্রার্থী হলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব হুমকিতে তিনি ও তার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। একবার হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে ফেরার পর আবারও হামলার আশঙ্কা করছেন তিনি। এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই বিএনপি নেতা।

Advertisement
ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!