ঢাকা,  বুধবার   ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

[ পেশা ও জীবন ]
সামাজিক মাধ্যম থেকে

যাদের ঘামে রিজার্ভ বাড়ে- তাদের কেন মারো?

পোশাক শ্রমিকদের মজুরির অন্দোলন- দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা চাই
ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:২৮, ৪ নভেম্বর ২০২৬
যাদের ঘামে রিজার্ভ বাড়ে- তাদের কেন মারো?
যারা এই রাষ্ট্রকে বাচিঁয়ে রেখেছে, যারা রাষ্ট্রের অর্থনীতি ধরে রেখেছে তাদের সাথে এমন বৈষম্য কেন? কেন তাদের না খেয়ে থাকতে হবে? কেন তাদের সন্তানেরা মান সম্মত শিক্ষা পাবেনা? কেন তার পরিবার উন্নত চিকিৎসা পাবেনা?

পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবী: আন্দোলন নাকি উস্কানি এ নিয়ে নানামত রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে যে যার মতো করে বলার চেষ্টা করছেন। তারই প্রেক্ষিতে পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির জন্য চলমান আন্দোলনকে ঘিরে ফেসবুক থেকে নেয়া কিছু মন্তব্য উপস্থাপন করা হলো-

*** Golam Kabir
দেশের ৩৮ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস রপ্তানি আর ৩৫ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী রেমিটেন্সের পেছনে লুকিয়ে আছে লাখ লাখ মানুষের রক্ত পানি করা পরিশ্রম। 

৪৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির মধ্যে ৩৮ বিলিয়ন ডলারই রেডিমেড গার্মেন্টসের।
৭০ বিলিয়ন আমদানির ঘাটতি পূরণ করে বাকি রেমিটেন্স ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সমন্বয়ে।

আমাদের যে রিজার্ভ বা অর্থনীতি সচল আছে সেটা শুধুমাত্র এই গার্মেন্টসকর্মী ও প্রবাসীদের জন্য। 

যাদেরকে আজ গালি দিচ্ছেন তাদের জন্য আমাদের অর্থনীতি, উন্নয়ন টিকে আছে।

তেল,গ্যাস, বিদ্যুৎতের সবকিছুর দাম বাড়ালেন।দ্রব্যমূল্যের মূল্যস্ফিতি হয়ে হচ্ছে। তাহলে আগের বেতনে শ্রমিকরা কিভাবে চলবে?

বুঝলাম মালিকপক্ষ শ্রমীকদের বেতন ৩০,০০০ টাকা দিতে পারবে না। এটা তারা দাবি করেছে। চাওয়ার বেলায় কেউ কম চাই নাকি? আপনি যুক্তিযুক্ত বেতন বাড়ানোর কথা বলেন। ৩০ হাজার না পারলে ২৫ হাজার করেন।

আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা, দেশের রিজার্ভ টিকিয়ে রাখা এই মানুষগুলো কিন্তু কোনো বিলাসী জীবন চান না; তারা শুধু ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার অধিকার চান। 

অথচ আজ যখন তারা নিজেদের বাঁচার তাগিদে কথা বলছেন, তখন চারপাশ থেকে ধেয়ে আসছে অবহেলা আর কটু কথা।
তেল, গ্যাস আর নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তাতে এই আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতির বাজারে পুরোনো বেতনে একটা পরিবার চালানো কতটা যন্ত্রণার, তা কি আমরা অনুভব করতে পারি? 

তারা হয়তো বেঁচে থাকার সর্বোচ্চ আকুতি থেকে ৩০,০০০ টাকা বেতন দাবি করেছেন—চাওয়ার বেলায় মানুষ তো একটু বেশিই চায়। মালিকপক্ষ যদি পুরোটা নাও দিতে পারে, অন্তত আলোচনা করে ২৫,০০০ টাকার মতো একটি যৌক্তিক ও মানবিক বেতন কি নির্ধারণ করা যায় না? 

মনে রাখবেন, এই শ্রমিক ভাই-বোনেরা ভালো না থাকলে আমাদের পোশাক শিল্প টিকবে না, আর তারা না হাসলে দেশের মুখেও হাসি ফুটবে না। আসুন, তাদের প্রতি কঠোর না হয়ে একটু সহানুভূতিশীল হই।

- গোলাম কবীর, কানাডা বিজনেস কনসালটেন্ট ও মর্টগেজ এজেন্ট, টরন্টো,

*** Julfiker Ali Simon
গার্মেন্টস শিল্পের স্বার্থে ধ্বংসাত্মক নয়, দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা চাই।
সরকার ও মালিকপক্ষের আশ্বাস সত্ত্বেও এ ধরনের বিধ্বংসী আন্দোলন কোনোভাবেই কাম্য নয়। বরং এটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য আত্মঘাতী।

শ্রমিক ভাইদের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান জানিয়েই সরকার মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে। তাই দাবি আদায়ের প্রক্রিয়ায় আলোচনা, সমঝোতা ও দায়িত্বশীল আচরণই হওয়া উচিত প্রধান মাধ্যম।
মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম মেরুদণ্ড হলো গার্মেন্টস শিল্প। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখ লাখ শ্রমিকের জীবিকা, অসংখ্য উদ্যোক্তার বিনিয়োগ এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি।

শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষই এই শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এক পক্ষের ক্ষতি মানে অন্য পক্ষেরও ক্ষতি।

তাই আসুন, ধ্বংস নয়—উৎপাদন বাড়াই। সংঘাত নয়—সমাধানের পথ খুঁজি। নেতিবাচক কর্মকাণ্ড পরিহার করে ঐক্য, দায়িত্বশীলতা ও ইতিবাচক মনোভাবের মাধ্যমে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে আরও শক্তিশালী করি।

শিল্প বাঁচলে কর্মসংস্থান বাঁচবে, অর্থনীতি বাঁচবে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

*** Mohammad Abdullah
অনেকেই বলছে শ্রমিকদের আন্দোলন নাকি অযাচিত, কোনও অর্থ হয়না এই আন্দোলনের। 
১. আচ্ছা গার্মেন্ট​ শ্রমিকেরা প্রতিদিন ৮ ঘন্টা কাজ করে? 
২. তারা কি বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা এগুলা তাদের প্রতিষ্ঠান অথবা রাষ্ট্র থেকে পায়? 
৩. তারা কি কর্মসংস্থানে জড়িত থাকা অবস্থায় মারা গেলে তার পরিবার প্রতিমাসে কোনও মাসিক ভাতা পায়? 
৪. তাদের অবসরের বয়স কত? অবসরে গেলে তাদের প্রতিষ্ঠান / সরকার কত টাকা দেয়? 
এগুলার কোনও সুবিধা তারা কি পায়? কিন্তু আমাদের রাজস্ব আয়ের অন্যতম বড় ভাগ তাদের থেকে আসে। যদি গার্মেন্টস না থাকে তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধসে পড়বে। 
কিন্তু যারা এই রাষ্ট্রকে বাচিঁয়ে রেখেছে, যারা রাষ্ট্রের অর্থনীতি ধরে রেখেছে তাদের সাথে এমন বৈষম্য কেন? কেন তাদের না খেয়ে থাকতে হবে? কেন তাদের সন্তানেরা মান সম্মত শিক্ষা পাবেনা? কেন তার পরিবার উন্নত চিকিৎসা পাবেনা? 
কারণ তারা গরীব, কারণ তারা শ্রমিক এজন্য।  শ্রমিকদের সাথে বৈষম্য, তাদের ঘাম দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি চলে। তখন দেশের লজ্জা করেনা? 
আর সরকারী অফিসার যারা চোর, ঘুষখোর, টাকা পাচারকারী তাদের জন্য কত সুবিধা।  কিন্তু দেশ গঠনে তাদের ভূমিকা নেই। 
শ্রমিকদের অধিকার চাই। শ্রমিকদের ঘামের মূল্য চাই। 

*** Nur Nishat
গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে আহত তৌফিক মা%রা গেছেন!!
গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলার শিকার হয়ে চলে গেলেন ২১ বছর বয়সী তৌফিক শেখ।

ঘটনাটি আরও বেশি কষ্টের। বাবাকে হারানোর পর পরিবারের অভাব ঘোচাতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে গাজীপুরে এসে একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ শুরু করেছিলেন তৌফিক। নিজের পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার জন্যই তাঁর এই সংগ্রাম।

গত ২ নভেম্বর শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া হয় আইসিইউতে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত মৃ-ত্যু-র সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে গেলেন তৌফিক। গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার সিং জিং জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃ-ত্যু হয়।

মাত্র ২১ বছর বয়স! যে বয়সে একজন তরুণের স্বপ্ন দেখার কথা, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে পৃথিবী ছাড়তে হলো তাঁকে।

একজন শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন, আর সেই আন্দোলনের মধ্যে একজন তরুণের এমন নির্মম ভাগ্য৷

তৌফিকের পরিবারের এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

***
"গার্মেন্টস শ্রমিক, প্রবাসী ও কৃষক এই ৩ শ্রেনীর মানুষকে ভালোবাসতে জানলেই আমরা অনেক ভালো থাকবো।
- জুয়েল রানা, চিত্ত মিডিয়া

*** Tamanna Hasan
সাধারন  ভোগ্যপন্যের দাম কমান, 
ঘর ভাড়া কমান। তাহলে গার্মেন্টসের বেতন বাড়ান লাগে না।
নইলে ঢাকা থেকে  গার্মেন্টস সরাইয়া  নেন।
আশপাশের জেলা শহর অথবা গ্রামে শিফট করে দেন, কারন 
ঢাকার খরচের চাপ  বেশী। 
আপাতত এটাই সমাধান। নইলে মিছিল, লাঠিচার্জ আগুন আর পুলিশের সাথে দৌড়াদৌড়ি চলতেই থাকবে।

*** Marzia Prova
রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে শ্রমিক তৌফিকের মৃত্যু।
গাইবান্ধার শ্রমিক তৌফিক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের মিছিলে ছিলো। আন্দোলনে দমন নিপীড়ন শুরু হলে সে ছবি তুলে সেসবের। 

তখন সরকারের পেটোয়া বাহিনী তাকে এলোপাথারি ভাবে নিপীড়ন করে। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তৌফিক মারা গেলেন। 
সরকারের পেটোয়াবাহিনীদের এই রুপ শ্রমিকদের আন্দোলনে সবসময়ই দেখা গিয়েছে। ২০২৩ এ মজুরি বৃদ্ধি আন্দোলনে চারজন শ্রমিককে গুলি করে মারা হয়েছিলো।।

কিন্ত সেইসময় যে ২৫ হাজার টাকার মজুরি দাবি করা হয়েছিলো, আওয়ামীলীগ সরকার তা মানেনি। চেয়েছিলো ২৫ হাজার, দিয়েছিলো ১২৫০০। শ্রমিকের রক্তও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। 

এবার মজুরি বোর্ড গঠন করার পর শ্রমিক কেন মাঠে এবং এখানে কোন উস্কানি যারা খুঁজছেন তারা কি ভুলে গেছেন ২০২৩ সালের সেই আন্দোলনকে?

শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার ক্ষমতা নাই, সিবিএ নাই, দরকষাকষিতে শ্রমিক নাই। মজুরি বোর্ডে পুতুল সরকারি শ্রমিক প্রতিনিধি রাখা হয়, মজুরি যা দাবি করা হয় তা কোনদিনই দেওয়া হয় না!

তাহলে শ্রমিক রাজপথে থাকা ছাড়া আর কি করবে? কিসে ভরসা পাবে সে?
শ্রমিক আন্দোলন কখনোই রাজপথের হিসাব ছাড়া অন্য কোন কিছুতে ফয়সালা হয়নি। 

টিএনজেডের আন্দোলনের সময় ঈদের বোনাস ও বকেয়া মজুরি দাবিতে শ্রমিকরা শ্রম ভবনের অবস্থাকালে, শ্রম ভবনের ডিরেক্টর আমাকে বলেছিলো যে শ্রমিকদের বলেন শ্রম আদালতে গিয়ে বকেয়া আবেদন করতে।

আমি তাকে বলেছিলাম তাহলে আগামী ১০ বছরেও এই বকেয়া মজুরি আদায় হবে না। 

শ্রম আদালতে লাখ লাখ রিট পড়ে আছে, কিন্ত আদালত শ্রমিকের সেই অভিযোগের বেশিরভাগ নামকাওয়াস্তে রায় দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি৷ 

শ্রমিকের যা কিছু, তা সব রাজপথে থেকেই আদায় করতে হয়েছে৷ 
শ্রমিককে মজুরি বোর্ডে গঠনের পরেও কেন রাজপথে থাকতে হচ্ছে, এই কথা যেসব রাজনৈতিক কর্মীরা তুলছেন, তাদের চোখ 'ক্ষমতার ন্যাবা' পড়েছে।

**** Kazol Nishi 
শ্রমিকের ঘামে তৈরি হয় আমাদের পরনের পোশাক, অথচ সেই শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে জোটে লাঠির আঘাত! আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁদের কাছ থেকে মানুষ দায়িত্বশীল আচরণ ও মানবিকতা প্রত্যাশা করে, নির্যাতন নয়।
শ্রমিকের ন্যায্য দাবি শুনুন, তাঁদের সম্মান দিন। লাঠির জোরে নয়, ন্যায়সংগত আচরণের মাধ্যমেই দায়িত্ব পালন করুন।
আমার ক্ষুদ্র লেখনীর মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালাম।

ঘামের দামে লাঠির আঘাত
কাজল নিশি
ডিউটি পোস্টে মোবাইল টেপো
হাত করে না কাজ,
গার্মেন্টস শ্রমিক ধরে পেটাও
নেই কি তোমার লাজ?
ওরা তো সেই কাজ করে খায়
যেই কাজে নাই ফাঁকি,
যাদের তৈরি পোশাক পরে
আমরা ভালো থাকি।

লাঠি হাতে আছে বলেই
শ্রমিক পেটাও ভাই?
পেটানো ছাড়া বোঝানো কি
তোমার ধর্মে নাই?
আন্দোলন তো করছে কেবল
ন্যায্য মূল্য পেতে,
অল্প টাকায় পারে কি আর
ভালো কিছু খেতে?

তুমি তো ভাই ঘুষের টাকায়
খাচ্ছ অনেক ভালো,
পুলিশ তোমার বিবেক বলো
কেন এত কালো!

*** Palas Rahman
ডিসেম্বরে ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ১০০% মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সাইন হবে। এই মাসেই নাকি ক্লজগুলো সিলগালা হচ্ছে। আর ঠিক এই ডিসেম্বরের আগেই হঠাৎ করে বাংলাদেশে গার্মেন্টসে আগুন, রাস্তা ব্লক, ভাঙচুর আর ডেলিভারি আটকানোর নোংরা খেলা শুরু হয়ে গেলো! 
কাকতালীয়? 

আরে ভাই, রাজনীতি আর জিওপলিটিক্স তো বাচ্চাদের লুডো খেলা না! কালানুক্রম বুঝেন! 

একটু ঠান্ডা মাথায় ঠান্ডা স্ট্যাটসটা দেখেন:
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের দখল: ১৯.৫%!

আর ভারতের দখল কত? মাত্র ৪.৫%!
এখন ভারতের ওপর ইউরোপে ১২% বাণিজ্য শুল্ক আছে। 
আর এই মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সাইন হলেই ওই ১২% ট্যাক্স সরাসরি নেমে আসবে গোল্লায়-০%! 

মানেটা বুঝলেন? 
এতদিন বাংলাদেশ যে শূন্য শুল্কে ইউরোপের বাজার একচ্ছত্র শাসন করেছে, ভারতও এখন সেই সেইম ফ্রি এন্ট্রি টিকিট পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা এক জায়গায়-মার্কেটে তো অলরেডি বাংলাদেশ বুকড! ১৯.৫% শেয়ার সহজে তো ছিনিয়ে নেওয়া যাবে না। 

তাহলে রাস্তা কী? 
সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকাও! এক বছর ধরে প্ল্যানিং কইরা এখন নামানো হইছে আখ্যানমূলক যুদ্ধ আর হাইব্রিড অন্তর্ঘাত!

তারই ট্রেলার দেখলেন গত মাসে! 
অক্টোবরে ইন্ডিয়া থেকে 'কে কে ক্রিয়েশন' নামের কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে এসাইন করে বাংলাদেশে পাঠানো হলো। কী করতে? গার্মেন্টসের ভেতরের খুঁতখুঁতানি ভিডিও বানাতে! ভারতে ফিরে গিয়ে সে স্পেসিফিকভাবে ‘ZARA’ ব্র্যান্ডকে ট্যাগ করে এমনভাবে ভিডিও বানালো যেন বাংলাদেশের পুরো টেক্সটাইল সেক্টরটাই একটা ক্রাইম সিন! 

কেন Zara-কে টার্গেট করলো? কেন অন্য কোনো লোকাল ব্যান্ড না?
কারণ Zara-র গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের মেরুদণ্ড হলো বাংলাদেশ!
বাংলাদেশের ৩০০টি টায়ার-১ ফ্যাক্টরি ডিরেক্টলি জারার কাপড় বানায়!

আরও ১৫০০টি সহযোগী গার্মেন্টস জারার সোয়েটার, ডেনিম আর টি-শার্ট ডেলিভারি দেয়!
গ্লোবালি জারার মোট কাপড়ের ১২–১৫% সোর্স হয় বাংলাদেশ থেকে, যেখানে ভারতের শেয়ার মাত্র ৫%! 

এতবড় মার্কেট খালি চোখে দেখলে তো গা জ্বলবেই! তাই একজন কে কে ক্রিয়েশন না, সামনের কয়েক সপ্তাহে দেখবেন আরও ডজনখানেক পেইড ইনফ্লুয়েন্সার আর মানবাধিকারের মুখোশ পরা সিন্ডিকেট ঝাঁপিয়ে পড়বে!

গেম প্ল্যানটা একদম পানির মতো পরিষ্কার:
নভেম্বর-ডিসেম্বর হলো বাংলাদেশের পোশাক ডেলিভারির পিক টাইম।

ঠিক এই সময়ে:
১️. কোটি কোটি টাকা ঢেলে কিছু শ্রমিককে রাস্তায় নামাও।
২️. কারখানায় ভাঙচুর চালিয়ে প্রোডাকশন শিডিউল বরবাদ করো।
৩️. বিদেশি বায়ারদের কান ভারী করো যে "বাংলাদেশে সাপ্লাই দিলে সময়মতো মাল পৌঁছাবে না!"

৪️. আর ঠিক যখন ডিসেম্বরে ভারতের জিরো-ট্যাক্স FTA চালু হবে, তখন ইউরোপের বায়ারদের টেবিলে অফার দাও-"বাংলাদেশে ঝুঁকি নিয়েন না, অর্ডার আমাদের ফ্যাক্টরিতে শিফট করেন!"

টার্গেট ২০২৭? না বস, খেলা শুরু এই ডিসেম্বরেই! ২০২৭-এর ফার্স্ট হাফে যখন গ্লোবাল বায়াররা নতুন কন্ট্রাক্ট সাইন করবে, ততদিনে বাংলাদেশকে রক্তাক্ত করে ইউরোপের পুরো মার্কেট নিজেদের পকেটে ঢোকানোই হলো আলটিমেট মাস্টারপ্ল্যান!

এখন শুনেন আসল কথা-
গার্মেন্টস শ্রমিক ভাই-বোনদের বেতন বাড়ানো ১০০% যৌক্তিক! 

গত ১০ বছরে চাল-ডাল-তেলের দাম ডাবল-ট্রিপল হইছে, অথচ তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তারা কষ্ট করতেছে, এটা চরম বাস্তবতা। এবং বর্তমান সরকার অলরেডি মালিক, শ্রমিক আর নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে 'মজুরি বোর্ড' গঠন করেছে। বোর্ড এখন নতুন মিনিমাম ওয়েজ আর রিভিউ পলিসি নির্ধারণের কাজ করতেছে। 

তাহলে কথা একটাই-
মজুরি বোর্ড যখন টেবিলে বসে কাজ করছে, ঠিক এই ডেলিভারি পিক-টাইমে রাজপথে নেমে ফ্যাক্টরি ভাঙচুর কার স্বার্থে? শ্রমিকদের পেটে লাথি মেরে কারখানা বন্ধ করে দিলে বেতন দেবে কে? 

এই নাশকতার স্পনসর কারা?
ভেতরের খবর নেন-কোটি কোটি টাকার ফান্ডিং নামছে এই প্রজেক্টে! পতনের জ্বালায় জ্বলতে থাকা কিছু পতিত রাজনৈতিক কীট, কয়েকজন শীর্ষ ক্রোনি ব্যবসায়ী আর ২-৩ জন সাবেক পলাতক এমপি পেছন থেকে ক্যাডার আর জনবল সাপ্লাই দিচ্ছে! উদ্দেশ্য একটাই-দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হোক, দেশের কোটি কোটি শ্রমিকের রিজিক বন্ধ হোক, তবুও তাদের বিদেশি প্রভুরা খুশি থাকুক!

বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে স্পষ্ট দাবি-
বিহাইন্ড দ্য সিনের এই ইকোনমিক টেরোরিস্টদের মুখোশ দেশবাসীর সামনে আনেন! কারা এই টাকার সোর্স? কোন অ্যাকাউন্টে আসছে এই সাবোটাজ ফান্ড? এদের প্রত্যেকটার নাম-ঠিকানা জাতির সামনে ডিসক্লোজ করুন! 

নিজের দেশের রুটি-রুজি যারা বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে চায়, তাদের ক্ষমা নেই! বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নিয়ে নোংরা আন্তর্জাতিক দালালি আর বরদাশত করা হবে না!

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!