ঢাকা,  বুধবার   ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

[ রাজধানী ]

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন: ডিএমপি কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:৫৮, ৪ নভেম্বর ২০২৬
মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন: ডিএমপি কর্মকর্তা
ছবি: সংগৃহীত

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর মহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মহিদুল ইসলাম জানান, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। মিরপুর-১, পল্লবীর বিভিন্ন এলাকা, রূপনগর, মিরপুর-১২ ও কাফরুল রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সব মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

মিরপুরের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অনেক পোশাক কারখানার শ্রমিক কাজে ফিরেছেন এবং কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। শ্রমিকরা কাজে ফিরে স্বাভাবিক উৎপাদন চালিয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে বলে জানান মহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সব ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। সমন্বিতভাবে কাজ করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।

আন্দোলনের নামে সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা পুলিশের দায়িত্ব। অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড, কারখানায় আগুন দেওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি বিবেচনায় মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে। প্রকৃত শ্রমিকরা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন বলে মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন, শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে যারা অপরাধ করাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং পোশাকশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।

তিনি আরও বলেন, অপরাধীরা যত শক্তিশালীই হোক বা যত ষড়যন্ত্রই করুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!