পিটার ম্যাকক্যাথি: চৌদ্দ বছর বয়সে পিটার ম্যাকক্যাথি বিদ্যুৎ চমকানোর শিকার হন। তিনি একদিন সমুদ্রে নৌকা ভ্রমণে গিয়েছিলেন। হঠাৎ করেই কিছুক্ষণ পরে তার মাথার উপরে মেঘের কুন্ডলী তৈরি হতে থাকে এবং কিছু বুঝে উঠার আগেই বিদ্যুৎ তার শরীরের উপরে পড়ে যদিও ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান কোনো প্রকার শারীরিক আঘাত ছাড়াই। ভাগ্য তার এতটাই সুপ্রসন্ন যে কিছুদিন পরেই তার ১০ লাখ ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় ৮ কোটি টাকার লটারি লেগে যায় এবং রাতারাতি বাদশা বনে যান৷
.png)
ব্রিটনি ওয়ারলি: ব্রিটনি ওয়ারলির সাথে বিদ্যুৎ চমকানোর এই ঘটনাটি ঘটে ২০১১ সালে। ওয়াশিংটনের পেনসিলভেনিয়াতে ১১ বছর বয়সী ব্রিটনি বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়েছিলো। হঠাৎ করেই সৃষ্ট হওয়া ঘুর্ণিঝড় থেকে বিদ্যুতের ঝলকানি ব্রিটনির গায়ে এসে পড়ে। বাড়ি ফিরে ব্রিটনি দেখতে পায় তার বাম হাত এবং কোমরের চামড়া প্রায় দগ্ধ হয়ে গেছে৷ ডাক্তার দেখানোর পর জানা যায় তার কাঁধের হাড়ও ভেঙ্গে গিয়েছে এবং ধীরে ধীরে সে সুস্থও হয়ে উঠে। তবে সে নিশ্চিতভাবে সৌভাগ্যবান যে সৃষ্টিকর্তা তাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছেন।
জেমি স্যানটানা: ২০১৬ সালে জেমি তার ঘোড়াকে নিয়ে বুকি এরিজোনা নামক জায়গায় ‘হর্স রাইডিং’ করতে যায়। তখন সে একটি ভয়ানক ঘটনার শিকার হয়৷ সে উল্লেখিত জায়গাটিতে হঠাৎ করেই প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে এবং দীর্ঘকায় একটি ঝড়ের ঝলকানি জেমির শরীরে এসে পড়ে। আর সেই বজ্রপাত এতটাই তীব্র ছিলো যে তার ঘোড়া সেখানেই মারা যায় আর জেমি আজো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে৷
ডিলান নিকোলস: ডিলানের সাথে বজ্রপাতের ঘটনাটি ঘটে আগস্ট ২০১৬ সালে যখন ডিলান নিউইয়র্কের ‘ওয়াটার টাউন’ নামে একটি জায়গায় গ্যারেজে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলো। হঠাৎ তার উপরে বিদ্যুৎ এসে পড়লে সে তার বুকে হাত দিয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ে। সৌভাগ্যক্রমে ডিলানের গ্যারেজের দরজা অধিকাংশ বিদ্যুৎ শোষণ করার ফলে খুব অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ ডিলানের গায়ে লেগেছিলো বলেই ডিলান সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন।
রয় সালিভান: রয় সালিভানকে কিংবদন্তি বললেও বোধ হয় ভুল হবে না৷ একবার নয়, দুবার নয় বরং সাত বারেও বজ্রপাতের শিকার হয়ে বেঁচে ফিরে আসা মানুষ রয় সালিভান৷ এই সাতবার বিদ্যুৎ চমকানোর ঘটনা ১৯৪২ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সালিভানের সাথে ঘটে। আর আশ্চর্যজনকভাবে সাতবারের বারও বেঁচে ফিরে আসার জন্য তার নাম গিনিজ বুকেও উঠে যায়। তারপর থেকে তাকে ‘হিউম্যান লাইটেনিং রড’ এবং ‘হিউম্যান কনডাক্টর’ নামে ডাকা হয়। অবশেষে ৭১ বছর বয়সে ১৯৮৩ সালে বন্ধুক দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়ে রয় মারা যান।
পরিশেষে বজ্রপাত সম্পর্কে আরেকটু বাড়িয়ে বললে, বর্তমান সময়ে আশ্চর্যজনকভাবে বজ্রপাত বেড়ে গেছে এবং বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য হারে তা আরো বেশি৷ বেসরকারি সংগঠন দুর্যোগ ফোরামের হিসাবে দেখা গেছে, ২০১২ সালে বজ্রপাতে নিহত মানুষের সংখ্যা ছিল ১৫২। ২০১১ সালে তা ছিল ১৭৯। আর গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মারা গেছে ১৮০ জন। এর মধ্যে ২৭ জনই শিশু।
ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস