আমাদের দেশে হট ডগের সসেজ তৈরিতে মুরগি কিংবা গরুর মাংস ব্যবহার করা হয়। তবে ইউরোপে এই সসেজ তৈরি হয় বেশিরভাগ সময় শূকরের মাংস দিকে। মূলত জার্মানির খাবার হট ডগ। শরণার্থীদের সঙ্গে ইউরোপ থেকে আমেরিকায় প্রবেশ করে হট ডগ। এক সময় আমেরিকার জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুডে পরিণত হয়েছিল এটি।
সে সময় মূলত কারখানার শ্রমিক, দিনমজুরদের কাছে জনপ্রিয় ছিল হট ডগ। রাস্তার ধারে চাকা লাগানো ছোট ঠেলাগাড়িতে করে বিক্রি করা হত এগুলো। বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে পুরো আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছিল এই খাবার। আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় হট ডগ প্রস্তুতি প্রণালীও কিছু কিছু বদলে গিয়েছিল সেই এলাকার মানুষের স্বাদের রকমফেরে।
.png)
বিশ শতকে জার্মানিতে কুকুরের মাংস খাওয়ার চল ছিল। সেই অর্থেই অনেকেই মনে করতেন জার্মানির সসেজ কুকুরের মাংস দিয়ে তৈরি হত। তাই সেখানে সসেজ-এর আর এক নাম হয়ে গিয়েছিল ‘ডগ’। ১৮০০ সাল থেকেই সসেজ-এর এই নাম প্রচলন হয়ে গিয়েছিল জার্মানিতে। তবে তখনও সসেজ ভরা পাউরুটিকে হট ডগ বলা হত না। এর নাম ছিল ডাচশান্ড সসেজ।

আমেরিকার এক সংবাদপত্রের কার্টুনিস্ট ডাচশান্ড সসেজকে ‘হট ডগ’ বলে উল্লেখ করে একটি কার্টুন এঁকেছিলেন। সেই কার্টুন এতটাই জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছিল যে তার পর থেকে এই সসেজ ভরা পাউরুটির নাম হয়ে যায় হট ডগ।
নিউ ইয়র্কের পোলো গ্রাউন্ডের বাইরে ঠেলাগাড়ি করে ডাচশান্ড সসেজ বিক্রি করছিলেন এক জার্মান ব্যবসায়ী। ওই ঠেলাগাড়িতেই গরম গরম বানিয়ে বিক্রি করছিলেন তিনি। আর চিৎকার করে ডাচশান্ড সসেজ খাওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছিলেন দর্শকদের।
সংবাদপত্রের কার্টুনিস্ট থমাস আলয়সিয়াস দর্গানও কিছু দূর দাঁড়িয়ে বিষয়টি দেখছিলেন। নিউ ইয়র্কের পোলো গ্রাউন্ডে তখন বেসবল খেলা চলছিল। তিনি সে দিনের পরিস্থিতি একটি কার্টুনের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেন সংবাদপত্রে। তবে বিক্রেতা ঠিক কী নামে খাবারটির পরিচয় দিচ্ছিলেন তা তিনি বুঝতে পারেননি। তিনি বুঝেছিলেন ওটা আসলে সসেজ এবং গরম গরম সেটি পরিবেশন করা হচ্ছে। ১৮’শ শতকে হট ডগ যখন আমেরিকায় আসে, তখন এর নাম ছিল ‘কোনি আইল্যান্ড স্যান্ডউইচ’ বা ‘ফ্রাঙ্কফুর্টার স্যান্ডউইচ’।
জার্মানিতে এক সময় যেহেতু সসেজের অন্য নাম ছিল ‘ডগ’ এবং এটি গরম গরম পরিবেশন করা হচ্ছিল তাই কার্টুনে এই খাবারকে তিনি ‘হট ডগ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তখন থেকেই এই নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে আমাদের দেশে আসলে কবে নাগাত এই হড ডগ এলো তার সঠিক সময়ক্ষণ জানা নেই কারো। তবে অনেকেই মনে করেন পাশ্চাত্য দেশের খাবার বার্গারের পরই এই খাবারটির ধারণা চলে আসে বাংলাদেশে। এরপর ভোজন রসিকদের প্রিয় হয়ে উঠতে সময় লাগেনি খাবারটির।
বিশ্বের দীর্ঘতম হট ডগটি ছিল ৬০ মিটার (১৯৭ ফু) দীর্ঘ এবং বানটি ছিল ৬০.৩ মিটার (১৯৮ ফু)। হট ডগটি শীজোকা মাংস প্রযোজকরা অল-জাপান রুটি সমিতির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন, যার বান তৈরি করা হয়েছিল বিশ্ব রেকর্ডের জন্য পরিমাপ করে ইভেন্টটির সমন্বয় করা হয়েছিল। জাপানের টোকিওর আকাসাকা প্রিন্স হোটেলে ৪ আগস্ট, ২০০৬ এ অ্যাসোসিয়েশনের পঞ্চাশতম বার্ষিকী উদযাপনে হট ডগ এবং বানটি মিডিয়া ইভেন্টের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।