কুমারী নারীদের ভোগের পর হত্যা, গল্পের আড়ালে মজা লুটতেন রাজা
বলে রাখা ভালো, উপকথাগুলোর নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায় না, অর্থাৎ উপকথায় যেসব গল্পের অবতারণা করা হয়, সেগুলো যে সত্যি, এরকমটা দাবি করা হয় না কখনোই। কিন্তু উপকথাগুলো প্রায় সময়ই যে একটি নিগুঢ় বার্তা নিয়ে হাজির হয়, সেটার গুরুত্ব আছে।
মালদ্বীপের উপকথা অনুযায়ী, রান্নামারি হচ্ছে এক সামুদ্রিক দানব। এক হাজার বছর আগে এই দানবের উৎপাত শুরু হয়। রাতের বেলা এই দানব সমুদ্রের তলদেশ থেকে উঠে এসে মালদ্বীপের রাজধানী মালের লোকালয়ে পা রাখত, তারপর ধ্বংসযজ্ঞ চালাতো।
এই দানব মূল লোকালয়ের কুমারী নারীদের হত্যা করতো। মাসের পর মাস এই দানবের আক্রমণে মালদ্বীপের সমাজে নারীদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করে। যেসব পরিবারে কুমারী নারী ছিল, সেসব পরিবার রাত হতেই চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়তো।
.png)

মালদ্বীপের তৎকালীন রাজা চিন্তায় পড়ে যান। এই দানবের হাত থেকে কীভাবে মালদ্বীপের সমাজকে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে তার সভাসদদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। সবার সঙ্গে পরামর্শের পর রাজা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, রাজধানী মালে থেকে কাছে সমুদ্রতীরে একটি মন্দির তৈরি করা হবে, যে মন্দিরের ভেতরে প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর একজন কুমারী নারীকে রেখে আসা হবে।
সাধারণত যে কুমারী নারীকে মন্দিরে রেখে আসা হবে, তাকে রাতের বেলা একেবারে সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো মন্দিরের কাছে, এরপর মন্দিরের ভেতরে তাকে শক্ত করে বেঁধে রেখে আসা হতো। পরদিন ভোরবেলা গিয়ে সেই কুমারী নারীর পরিবারের সদস্যরা গিয়ে তার প্রাণহীন দেহ বহন করে নিয়ে আসত, এবং সৎকারের আয়োজন করতো। মালদ্বীপের সমাজে যেসব পরিবারের কুমারীদের রান্নামারি দানবের উদ্দেশ্য উৎসর্গ করা হতো, সেই পরিবারগুলো সমাজে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করতো।
রান্নামারি বলতে কিছুই ছিল না, বরং মালদ্বীপের তৎকালীন রাজা ছিলেন একজন বিকৃত মস্তিষ্ক, ও চরম নারীলিপ্সু ব্যক্তি। রান্নামারি দানবের অন্তরালে তিনিই সেই মন্দিরে গিয়ে সারারাত ধরে কুমারী নারীদের ভোগ করতেন। এরপর তার ভোগকর্ম শেষ হলে গেলে অসহায় নারীটিকে হত্যা করতেন, যাতে পরবর্তীতে সে মুক্ত হয়ে কোনো ঝামেলা করতে না পারে। অর্থাৎ, 'রান্নামারি' দানব ছিল তার একটি বানানো গল্প, যার আড়ালে তিনি নিজে তার ব্যক্তিগত নারীলিপ্সা মেটাতেন।
কিন্তু ১২০০ সালের দিকে এক মরক্কান পর্যটক, যিনি মালদ্বীপে ইসলাম প্রচার করতে এসেছিলেন, তিনি এই ঘটনা শুনে দারুণ বিস্মিত হন। তিনি এরপর প্রস্তাব করেন, কুমারী নারীর পরিবর্তে তিনি নিজে একরাত সেখানে কাটাবেন। মালদ্বীপের তৎকালীন রাজা তাকে প্রথমে বাধা দিলেও পরবর্তীতে তার জেদি মনোভাবের জন্য তার প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হন।
নিয়ম অনুযায়ী, তাকে রাতের বেলা মন্দিরের ভেতর রেখে আসা হয়। পর দিন যখন রাজার প্রতিনিধি সেই মরক্কান পর্যটকের মৃতদেহ আনার জন্য মন্দিরে প্রবেশ করে, তখন তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেন যে, সেই মরক্কান পর্যটক কোরআন শরীফ থেকে বিভিন্ন আয়াত তেলাওয়াত করছেন। এরপর রান্নামারি দানব তাকে আক্রমণ না করে সমু্দ্রে ফিরে যায়।
তিনি মালদ্বীপের তৎকালীন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাজা ও তার জনগণকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানান। উপকথা অনুযায়ী, এভাবেই মালদ্বীপে ইসলামের আগমন ঘটে।
মালদ্বীপের ক্ষেত্রে রান্নামারি দানবের উপকথার সত্যতা নিয়ে কারও মাথাব্যথা না থাকলেও সেই মরক্কান পর্যটকের মাধ্যমে যে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটেছিল, এর পক্ষে ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে।
সূত্র: রোরমিডিয়া অবলম্বণে
ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস