ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সাতরং ]

অতৃপ্ত আত্মা থেকে রক্ষা পেতে পোড়ামাটির সেনাবাহিনী তৈরি করেছিলেন সম্রাট

সাতরং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:১৫, ৮ আগস্ট ২০২২
অতৃপ্ত আত্মা থেকে রক্ষা পেতে পোড়ামাটির সেনাবাহিনী তৈরি করেছিলেন সম্রাট
ফাইল ছবি

চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং চীনকে একীভূত করেছিলেন। তবে চীন একীভূত হলেও তা বাস্তবায়নে কিন শি হুয়াং এর পদক্ষেপ ছিল বিভীষিকাময়। বিদ্রোহ দমনের নামে বিভিন্ন রাজ্যে হাজার হাজার স্থানীয়দের হত্যা করেছিলেন তিনি। ঐ সময় চীনে প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাস ছিল- হত্যার শিকার আত্মারা প্রতিশোধ নিতে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ায়। তারা হত্যাকারীর ওপর প্রতিশোধ নিতে দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়। কিন শি হুয়াং এই মতবাদের বিশ্বাস করায় মৃত্যুর পর তার আত্মার কী হবে, তা নিয়ে তিনি ব্যাপক দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়ে যান।

সম্রাটের আদেশ মেনে প্রায় আট হাজার সেনামূর্তি তৈরি করেন স্থানীয়রাএই সমস্যা মোকাবিলায় নিজের সমাধিস্থলে বিশাল সেনাবাহিনী স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন কিন শি হুয়াং। এখন থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে রাজাদের মরদেহের সঙ্গে সঙ্গী হিসেবে বিদেহী রাজার একাধিক দেহরক্ষী, সেবিকা এবং অনুচরকে হত্যার প্রচলন ছিল। এর মধ্যে মিশরীয় সভ্যতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। হাজার হাজার অতৃপ্ত আত্মার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সম্রাট কিন শি হুয়াং-এর কয়েক হাজার সেনা সদস্য প্রয়োজন ছিল। একসঙ্গে কয়েকহাজার সেনার হত্যার উদ্যোগ নিলে সম্রাট নিশ্চিতভাবে সেনাবিদ্রোহে প্রাণ হারাতেন। বিকল্প  হিসেবে জীবন্ত দর্শন কয়েক হাজার সেনামূর্তি নির্মাণের নির্দেশ দেন।

এগুলো বানাতে কোনো চেহারার পুনরাবৃত্তি করা হয়নি

Advertisement

সম্রাটের আদেশ মেনে প্রায় আট হাজার সেনামূর্তি তৈরি করেন স্থানীয়রা। এই প্রকল্পে প্রায় সাত লাখ শ্রমিক কাজ করতেন। এঁটেল মাটি দিয়ে গড়া সেনামূর্তিগুলো তারা বিশাল চুল্লিতে পোড়াতেন। এগুলো বানাতে কোনো চেহারার পুনরাবৃত্তি করা হয়নি। একটি পুনরাবৃত্তির চেহারা এবং তার দেহের ভাষা একেক রকম। পুরোপুর যুদ্ধের সাজে দাঁড়িয়ে থাকা পুনরাবৃত্তি সেনামূর্তিগুলো দেখেই বলে দেওয়া যায় কে বল্লমধারী পদাতিকের সদস্য আর কে তীরন্দাজ বাহিনীর সদস্য। 

বাহিনীর ভিন্নতা অনুযায়ী এক একটি সেনামূর্তির পোশাক ছিল একেক রকম। সাদা, কালো, নীল, হলুদ, সবুজ, গোলাপি এবং বেগুনী রংয়ে রাঙাতে বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হতো। সাদা রংয়ের জন্য বিভিন্ন মৃত প্রাণীর অস্থি উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে সেনামূর্তি গায়ে তার প্রলেপ দেওয়া হতো। গাঢ় লাল রংয়ের জন্য আয়রন অক্সাইড বা মরিচের গুঁড়া ব্যবহার করা হতো। সবুজ রংয়ের জন্য ম্যালাগাইড এবং নীল রংয়ের জন্য আজরাইক নামক খনিজ রং ব্যবহার করতেন প্রকল্পের শ্রমিকরা। সেনামূর্তিগুলোর মাথার চুল কালো করার জন্য কাঠ-কয়লা ব্যবহার করা হতো।

আবিষ্কার হওয়ার পর উন্মুক্ত বাতাসে থাকার কারণে এই সেনামূর্তিগুলো  প্রকৃত রং হারাতে শুরু করেছে

১৯৭৪সালে আবিষ্কার হওয়ার পর উন্মুক্ত বাতাসে থাকার কারণে এই সেনামূর্তিগুলো তাদের প্রকৃত রং হারাতে শুরু করেছে। এখন এগুলো দেখতে পোড়ামাটির মতো। সম্রাটের সমাধি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাকী সেনামূর্তিগুলো উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীনা সরকার। এগুলো হুবহু সংরক্ষণের কোন উপায় আবিষ্কার হলে বাকীগুলো উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হবে।

এই বিশাল সেনাবহরে ঘোড়াও রয়েছে। এগুলো ব্রোঞ্জের তৈরি এবং শরীরে সোনার ঝালর বসানো আছে। প্রত্মতাত্বিক বিচারে এগুলো অমূল্য। সুরকার, সচিব, বাজিকর এবং ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর মূর্তিও আছে এই বহরে। মূর্তিগুলো পোড়ামাটির হলেও এদের হাতে থাকা অস্ত্রগুলো বিভিন্ন ধাতব পদার্থের। ব্রোঞ্জ, তামা, আর টিনের সংমিশ্রণ রয়েছে এগুলোতে। এগুলো এখন প্রত্মতাত্বিক অমূল্য নিদর্শন।

সূত্র : ব্রিটানিকাডটকম এবং উইকিপিডিয়া

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!