রেলকর্মী জেমস কেপটাউন থেকে এলিজাবেথ পোর্টগামী লাইনে সিগন্যালম্যানের কাজ করতেন। কাজের সময় দুর্ঘটনায় জেমসের দু'টি পা অচল হয় তার। যার ফলেবাড়ির কাজটুকুও করা ছিল কষ্ঠসাধ্য। বসবাসের স্থান থেকে রেলস্টেশনের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। এ রাস্তাটুকু যেতে কষ্ট হতো তার। তখনই জেমস ভাবলেন, প্রশিক্ষণ পেলে তার জীবন অনেকটাই সহজ করবে বেবুন জ্যাক।
তিনি জ্যাককে শেখান কীভাবে ঠেলাগাড়ি ঠেলতে হয়। বাড়ি থেকে স্টেশন যাওয়ার পথে জেমস একটি ঠেলাগাড়ির ভেতর বসতেন এবং জ্যাক তাকে ঠেলে নিয়ে যেত।
শুধু তাই নয়, জ্যাকের প্রভুভক্তির পারদ ছিল উচ্চে। জেমসের কষ্ট লাঘব করতে বাড়ির সমস্ত কাজও করতো জ্যাক। ঘর পরিষ্কার থেকে বাড়ির আবর্জনা বাইরে ফেলাসহ সবই কাজ সামাল দিত জ্যাক।
.png)
জেমসের সার্বক্ষণিকের সঙ্গী ছিল এ বেবুন। স্টেশনে যখন জেমস কাজ করতেন, জ্যাক তা ভালো করে লক্ষ্য করতো। জেমস সিগন্যাল দেওয়ার পদ্ধতিও শেখাতে শুরু করলেন জ্যাককে। কোন লিভার কতবার টানতে হয়, কতবার বাঁশির আওয়াজ হলে সিগন্যালম্যান রেললাইন বদলাবেন, সেসব শিখে ফেলে জ্যাক। জেমসের নির্দেশ মতোই কাজ করত জ্যাক। জ্যাকের কাজ এতটাই নিপুণ ছিল যে, জেমসকে আর কোনো চিন্তাই করতেন না।

কিন্তু মানুষের পরিবর্তে একটা বেবুন এ কাজ দেখেন এক রেলযাত্রীর। সোজা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে করেন অভিযোগ। এ কথা জানার পর জেমসকে চাকরি থেকে বিতাড়িত করার পরিবর্তে রেল কর্তৃপক্ষ জ্যাকের কর্মক্ষমতা যাচাই করেন। জ্যাক সমস্ত কাজে পারদর্শী প্রমাণিত হয়। তাই তাকে চাকরি দেওয়া হয়। বাকি রেলকর্মীদের মতো নির্দিষ্ট নম্বর দেওয়া হল। তখন দিন পিছু ২০ সেন্ট বেতন ও সপ্তাহান্তে আধ বোতল বিয়ারও উপহার দেওয়া হত তাকে।
১৮৯০ সালে এক ব্যক্তি জ্যাকের সম্পর্কে রেলের সুপারিন্টেনডেন্ট জর্জ বি হোয়েকে চিঠি লিখে জানান, প্রভুর সঙ্গে জ্যাকের সম্পর্কের গভীরতা অন্য রকম। দুজনকে দেখে মন ভরে গেছে। আমি যখন তাদের কাছে যাই, তখন দেখি জেমস ঠেলাগাড়িতে বসে। জ্যাক প্রভুর ঘাড়ে হাত দিয়ে রয়েছে ও জেমস তার মাথার উপর হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। মানুষ মাত্রই ভুল হয়। তবে ৯ বছরের কর্মজীবনে একবারও ভুল করেনি জ্যাক। দুর্ভাগ্যবশত, যক্ষ্মায় মারা যায় বেবুন জ্যাক।