ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ সাতরং ]

আগুনঝরা রঙে এলো ঋতুরাজ বসন্ত

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৯, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
আগুনঝরা রঙে এলো ঋতুরাজ বসন্ত
ছবি: সংগৃহীত

ফাল্গুনের হাওয়া দোল লেগেছে প্রকৃতিতে। নতুনরূপে সেজেছে ঋতুরাজ। দখিনা হাওয়া, মৌমাছিদের গুঞ্জরন, কচি-কিশলয় আর কোকিলের কুহুতানে জেগে উঠেছে। পহেলা ফাল্গুন আজ। আজ শুভ বসন্ত অবগাহন।

শীতের উত্তরে বায়ুপ্রবাহের পর দখিনা হাওয়া আর স্বস্তিকর নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া সঙ্গে নিয়ে আগমন ঘটে বসন্তকালের। যদিও বসন্তের বাতাস স্থির থাকতে চায় না- তার মধ্যে কাজ করে দুরন্তপনা! আসলে বসন্তের বাতাস হলো আউলা বাতাস।

বাংলাদেশের ঋতুচক্রে বসন্তকালই সম্ভবত সবচেয়ে স্বল্পকালীন। বর্ষপঞ্জির পাতায় বসন্তকে ফাল্গুন ও চৈত্র মাসের অধীনে রাখা হলেও প্রকৃতপক্ষে এ ঋতুর স্থায়িত্বকাল এক বা অর্ধ মাসের বেশি নয়। তবে ক্ষণকালের এই পটপরিবর্তনই প্রকৃতিতে এনে দেয় স্নিগ্ধতা ও সজীবতার এক নতুন মাত্রা।

Advertisement

বসন্তের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনাতীত। শীতের নির্জীব প্রকৃতি যেন সহসা প্রাণ পায়। পাতাশূন্য গাছগুলো সুশোভিত হয় নতুন পত্রপুষ্পে। ফুলের গাছগুলোতে শোভা পায় রঙবেরঙের বিচিত্র সব ফুল। গোলাপ, শিমুল, অশোক, পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার রক্তিমতায় সেজে ওঠে পুষ্পকানন। আমগাছে মুকুল আসে। সবুজের সমারোহে ভরে যায় মাঠ-দিগন্ত। মৃদু বাতাসে দুলে ওঠা ধানের শীষগুলো কৃষকের মনেও দোলা দিয়ে যায়।

বসন্তের মনকাড়া প্রকৃতি- পুষ্পপল্লবে ভরা গাছগাছালি কোকিলের সুমধুর কণ্ঠে যেন জোয়ার এনে দেয়। কুহু তানের সুরলহরিতে সে মাতিয়ে রাখে সারা পাড়া। বৃক্ষ থেকে বৃক্ষে- এক ডাল থেকে আরেক ডালে উড়ে উড়ে গেয়ে বেড়ায় সুখের গান। ভ্রমরের গুঞ্জন-পাপিয়ার পিউ পিউ ডাক যেন কোকিলের কুহুতানে একাত্ম হয়ে মুখরিত করে তোলে চার পাশ। আম বাগানে-তরুলতা বনে পাখির কলরবে সৃজিত হয় ‘মন কেমন করা’ সুরের মূর্ছনা।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘আহা আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়’। ইটপাথরের নগরী ঢাকা শহরে হয়তো এমন আবহ দেখতে না পেলেও বাংলার প্রকৃতির মাঝে বসন্তের আমেজ। শহর থেকে একটু দূরে গেলেই চোখ জুড়িয়ে যাবে লাল আর বাসন্তী রঙের বাতাবরণে। শীতের জীর্ণতাকে ঝেড়ে ফেলে প্রকৃতি নতুন করে নতুন রূপে জেগে উঠেছে।

আজ লাল আর বাসন্তী রাঙা প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের সাজিয়ে বসন্তের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় ভাসবে বাঙালি। বসন্ত অনেক ফুলের বাহারে সজ্জিত হলেও গাঁদা ফুলের রংকেই এদিনে তাদের পোশাকে ধারণ করে তরুণ-তরুণীরা। খোঁপায় শোভা পায় গাঁদা ফুলের মালা। সঙ্গে প্রেয় মানুষের হাত, বন্ধুদের সঙ্গে উল্লাস আর সারাদিন আনন্দযজ্ঞে কাটাবে অনেকের।

বসন্তের আনন্দযজ্ঞ থেকে বাদ যাবে না গ্রামীণ জীবনও। বসন্তকে বরণ করে নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ও জেলা শহরগুলোতে চলছে বিশেষ আয়োজন। সেখানে নাচে গানে বসন্ত বরণের পাশাপাশি রয়েছে নানা গ্রামীণ খাবারের সমারোহ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!