ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রায়পুরে হঠাৎ বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম

এম.আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশিত: ১৯:১০, ৪ জানুয়ারি ২০২০
রায়পুরে হঠাৎ বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম
ফাইল ছবি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এবার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাড়ানো হয়েছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম। একদিনের ব্যবধানে কয়েকটি কোম্পানি প্রতি সিলিন্ডারে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দাম বাড়িয়েছে। দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।

একদিন আগে সিলিন্ডার ৯৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে এক হাজার ৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে। আবার কোনো দোকানে ১১শ টাকাও বিক্রি হচ্ছে।

শনিবার দুপুরে রান্নার সময় হঠাৎ গ্যাসের চুলা বন্ধ হয়ে যায় রায়পুর পৌর শহরের হলরোড এলাকার গৃহবধূ লাকি আক্তারের। উপায় না দেখে গ্যাস সিলিন্ডার কেনার জন্য বের হন। দোকানে গিয়ে জানতে পারেন গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। বাড়তি দাম পরিশোধ করার মতো টাকা আনেননি। তাই না কিনেই তিনি বাড়ি ফেরেন।

Advertisement

লাকি বলেন, রান্নার জন্য মাসে অন্তত একটি সিলিন্ডার কিনতে হয়। গত মাসে সিলিন্ডার কিনেছি ৯০০ টাকায়। আর শনিবার একই কোম্পানির সিলিন্ডার ১১’শ টাকা করে চাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

রায়পুর শহরের বিভিন্ন গ্যাস কোম্পানির ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতারা জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওমেরা, টোটাল ও যমুনা কোম্পানির এলপি গ্যাসের প্রতিটি ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায়। সেই গ্যাস সিলিন্ডার বাজারে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকায়। ক্লিনহিট গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে ৯৫০ টাকায়, এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকায়।

ধানহাটা সড়কের এলপি গ্যাসের খুচরা বিক্রেতা আবু তাহের বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির ডিলারদের কাছ থেকে দুইদিন ধরে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। তারা সামান্য লাভে খুচরা বিক্রি করছেন। পাইকারিতে প্রতিটি কোম্পানির সিলিন্ডারে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা বেড়েছে। তাই খুচরা বাজারে আগের চেয়ে ২শ’ টাকায় বেড়েছে।

বেসরকারি কলেজের শিক্ষক তাজল ইসলাম বলেন, বাড়তি দামে গ্যাস কিনে রান্না চালিয়ে যাওয়া অনেক কষ্টকর। তাই গ্যাসের চুলার পরিবর্তে ইলেকট্রিক ম্যাজিক চুলা ব্যবহার শুরু করেছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ডিলার অধিক মুনাফার লোভে জোটবদ্ধভাবে এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। এছাড়া সিলিন্ডারে ওজনের ক্ষেত্রেও রয়েছে তারতম্য।

নাভানা এলপি গ্যাসের পরিবেশক জুটন চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে এলপি গ্যাসের দাম বেড়ে যায়। বাড়তি দামের সঙ্গে ডিলারদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সব কোম্পানিই গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। কোম্পানির বেঁধে দেয়া দরেই সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে।

যমুনা ও টোটাল গ্যাসের পরিবেশক বিল্লাল হোসেন বলেন, কোম্পানি এলপি গ্যাসের প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম ১৫০ টাকা বাড়িয়েছে। আমরাও সেই দামের সঙ্গে সংগতি রেখে সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছি। আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বাড়ার ওপর নির্ভর করেই এ দাম বাড়ানো হয়েছে।

রায়পুরের ইউএনও সাবরীন চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের কারণে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে থাকলে বাজার তদারকি করা হবে। এরপর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!