কেঁদে কেঁদে আবরারের জন্মদিন কাটালেন মা
ফেসবুকের পোস্টকে কেন্দ্র করে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের ২২ তম জন্মদিন ছিল বুধবার। প্রতি জন্মদিনে বাবা বরকত উল্লাহ ও মা রোকেয়া খাতুন অন্তত ফোনে ছেলেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতেন। এবার ছেলের জন্মদিন কেঁদে কেঁদে কাটিয়েছেন আবরারের মা।
বুধবার সকাল থেকে বিষণ্ন মনে ছিলেন আবরারের মা-বাবা, ভাইসহ স্বজনরা। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় আবরারের গ্রামের বাড়ির পাশের একটি মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন হয়।
আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, প্রত্যেক মা-বাবার কাছে সন্তানের জন্মদিন একটি বিশেষ অনুভূতি। এবার ছেলের ২২ তম জন্মদিতে অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছি না। অসচ্ছল পরিবারের ছেলে বুয়েটে লেখাপড়ার সুযোগ পাওয়ার পর স্বপ্ন দেখতে শুরু করি আমরা। কিন্তু গত ৬ অক্টোবর রাতেই সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
.png)
রোকেয়া খাতুন বলেন, ১৯৯৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেয় আবরার ফাহাদ। ওই দিন ছিল বৃহস্পতিবার। ওই সময় ছিল মাঘ মাস।
কাঁদতে কাঁদতে আবরারের মা আরো বলেন, বয়স যখন তিন মাস, তখন আমি বাবাকে হারিয়েছিলাম। আবরার জন্মের পর তাকে আব্বু বলে ডাকতাম। পাঁচ বছর বয়সে তার জন্মদিন ঘটা করে পালন করেছিলাম। এরপর স্বাভাবিকভাবে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো হতো। আবরার নিহত হওয়ার চার বছর আগে লেখাপড়ার সুবাধে ঢাকায় থাকা শুরু করে। তাই জন্মদিনে ছেলেকে পাশে পেতাম না। তবে জন্মদিনের সকালে তাকে ফোনে শুভেচ্ছা জানাতাম আমরা। জন্মদিনে বন্ধুদের দিয়ে ভালো কিছু খেতে বলতাম তাকে। এখন এসব স্মৃতি চিন্তা করলেই কষ্ট বাড়েই। আমার জন্য ছেলের জন্ম বা মৃত্যুর দিন মানেই শুধুই কষ্টের।
আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, ভাইয়ের জন্মদিনে ঘটা করে পালন হতো না। কিন্তু পরিবারের জন্য দিনটি ছিল আনন্দের।
আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, ইন্টারনেটে আবরার ও আমাদের নিয়ে লোকজন নানা গুজব ছড়াচ্ছে। এতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছি।