শাহনাজ খাতুন ওই গ্রামের শাহজাহানের মেয়ে। সে ভূঞাপুর উপজেলার ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনার পর থেকে একই গ্রামের কথিত জিনের বাদশা হাজী দারোগ আলী পলাতক রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে এবং ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত সোমবার শাহনাজ খাতুন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পাশের বাড়ির হাজী দারোগ আলী বলেন, শাহনাজকে জিনে ধরেছে। জিনের বাদশা ছাড়া তাকে বাঁচানো যাবে না। এ সময় হাজী দারোগ আলী নিজেই জিনের বাদশা সেজে কলেজছাত্রী শাহনাজের সারা শরীরে স্পর্শ করে ঝাড়ফুঁক দিতে থাকেন।
.png)
এক পর্যায়ে কথিত জিনের বাদশা দারোগ আলী ব্যাপকভাবে শাহনাজকে শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। জিনের বাদশার নির্যাতনে শাহনাজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে সময় পাশের বাড়ির এক লোক রাত বারোটার দিকে পার্শ্ববর্তী ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শাহনাজকে ভর্তি করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষার্থীর অবস্থার অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালের চিকিৎসক শাহনাজকে মেডিকেল চেকআপ, সিটিস্ক্যানসহ বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন।
তবে নির্যাতনকারী কথিত জিনের বাদশার ছেলেদের প্রভাবে শাহনাজকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে শাহনাজকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়।
শাহনাজের মা বলেন, জিনের বাদশার নির্যাতনে আমার মেয়ের চোখ এমন হয়েছে। আমার মেয়ের কিছু হলে বিয়ে দেব কিভাবে। আমার স্বামী নেই। দেবর-ভাসুররা ঢাকা থাকেন। তারা এসে ব্যবস্থা নেবেন।
এ ব্যাপারে শাহনাজ খাতুন বলেন, আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। অপরদিকে অভিযুক্ত হাজী দারোগ আলীকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এছাড়া এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ওসি হাসান আল মামুন বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।