ঢাকা,  শনিবার   ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন স্মৃতি পাঠাগারের এ কি হাল!

পারভীন আক্তার, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০২:৩৩, ১ মার্চ ২০২০
ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন স্মৃতি পাঠাগারের এ কি হাল!
ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন স্মৃতি পাঠাগার

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ধুবুলিয়া গ্রামে ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন স্মৃতি পাঠাগার।

সময়ের পরিবর্তনে পাঠাগারটি এখন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইউপি কার্যালয় হিসেবে। পাঠাগারের ঘর, বই, অন্যান্য সরঞ্জাম দখলে নিয়েছেন উমারপুর ইউপির এক সদস্য। এরপর থেকে ঘরটি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

পাঠাগার ফেরত পেতে চাইলে স্থানীয়দের অশালীন ভাষায় গালাগাল করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ করেও মেলেনি প্রতিকার।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আব্দুল মতিনের অবদান চিরস্মরণীয় ও অনস্বীকার্য হলেও নিজ জন্মস্থানেই নেই তার কোনো স্মৃতি। ‘ভাষা মতিন’ নামে সর্বাধিক পরিচিত এ ভাষাসৈনিক ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন অকুতোভয় ও সংগ্রামী নেতা। আমৃত সংগ্রামে অবিচল থেকে বলে গেছেন শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজের কথা। তার স্মৃতি রক্ষায় পাঠাগারটি উদ্ধারের দাবি ধুবুলিয়ার মানুষের।

পাঠাগারের পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ২০০৭ সালে ৩০ ফুট লম্বা টিনের একটি ঘরে এক হাজার পাঁচশ বই ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে পাঠাগারটির যাত্রা শুরু হয়। ২০১২ সালে যমুনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করতে পাঠাগারের বই, সরঞ্জাম ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হাকিমের বাড়িতে রাখা হয়। পরবর্তীতে পাঠাগারের কোনো কিছুই তিনি ফেরত দেননি। বর্তমানে উমারপুর ইউপি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে পাঠাগারটি।

পাঠাগারের পরিচালক আরো বলেন, আমি তৎকালীন ইউএনও’র কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করি। সেই থেকে আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হাকিম বলেন, নদী ভাঙনের সময় পাঠাগারটি গ্রামের এক জায়গায় রেখে দেই। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান সাহেব ঘরটি ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে ব্যবহার শুরু করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন বলেন, ঘরটি ভাঙা ছিল। আমি মেরামত করে রেখেছি। ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হাকিমের বাড়ি থেকে বইগুলো উদ্ধার করেন, এরপর আমি ঘর ছেড়ে দেবো।

চৌহালীর ইউএনও দেওয়ান মওদুদ আহমেদ বলেন, আমি আসার পর কোনো অভিযোগ পাইনি। পুরনো অভিযোগের কপি দিলে অথবা নতুন করে অভিযোগ করলে আমি ব্যবস্থা নেব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!