প্রেম করে বিয়ে, স্ত্রী হত্যায় ঘাতক স্বামী গ্রেফতার
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় গৃহবধূ মুন্নী আক্তারকে হত্যার অভিযোগে স্বামী নাঈম মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতে গাজীপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা যায়, জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার শাহাজামাল মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া ইকোফুড নামক কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কুলাউড়া পৌরসভায় বসবাস করতেন। এক বছর আগে পরিচয় হয় পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া গ্রামের মুন্নী আক্তারের সঙ্গে। পরিচয় থেকে সেটি প্রেম-ভালোবাসায় গড়ায়। এরপর মে মাসে মুন্নীকে বিয়ে করে নাঈম।
.png)
গত ৮ জুলাই রাতে যৌতুকের বিষয়ে দুইজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে নাঈম নিজের স্ত্রী মুন্নীকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে। তীব্র আঘাতে মুন্নীর বাম কান দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এরপর নিজের স্ত্রীর মরদেহ বিবস্ত্র করে বসত ঘরের খাটের ওপর রেখে বাইরে থেকে ঘরের দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যায় নাঈম।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে মুন্নী হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন এবং তার স্বামী নাঈম মিয়াকে আটক করতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়।
অ্যাডিশনাল এসপি (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাওসার দস্তগীর এবং ওসি বিনয় ভূষণ রায়ের দূরদর্শিতায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পলাতক আসামি নাঈমের খোঁজ মেলে।
গত শনিবার রাতে ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম এবং মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রহিম জিবান গাজীপুরে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের বাসন থানার বউ বাজার এলাকা থেকে নাঈম মিয়াকে গ্রেফতার করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রহিম জিবান বলেন, টানা তিন দিনের অভিযানে ঘাতক নাঈমকে গ্রেফতার করা হয়। নাঈম আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে তিনি তার স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ জানান, স্ত্রী হত্যার প্রধান আসামি নাঈম মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতার করায় নিহত মুন্নীর পরিবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।