মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন এ আদেশ দেন। এর আগে আদালতে নিয়ে আসা হয় দুর্নীতির দায়ে কারাগারে থাকা শামীমকে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, দুদকের করা মামলায় মঙ্গলবার জি কে শামীমকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আদেশ দেয় আদালত।
.png)
গত বছরের ২২ নভেম্বর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এ মামলাটি করেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম। এতে জি কে শামীমসহ দুজনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলায় অপর অভিযুক্ত হলেন- ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল করিম চৌধুরী।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট চবির ৬ষ্ঠ একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে সর্বনিম্ন দরদাতা ও একক মালিকানাধীন (তাদের দাখিলকৃত তথ্য অনুযায়ী) ফার্ম হিসেবে ৭৫ কোটি এক লাখ ২৯৫ টাকার কার্যাদেশ পায় দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স- জিকেবিএলকে। দুই বছরের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করার শর্তে একই বছরের ১৪ নভেম্বর চুক্তি হয় তাদের সঙ্গে। ওই সময় দাখিল করা কাগজের সঙ্গে আগের পাঁচ বছরে কমপক্ষে একটি ৩৫ কোটি টাকার বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ সন্তোষজনকভাবে সমাপ্তির সনদপত্র জমা দেয় দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স-জিকেবিএলকে। একইসঙ্গে ওই পাঁচ বছরে গড়ে কমপক্ষে ৪১ কোটি টাকার টার্নওভার ও ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকার লিকুইড অ্যাসেট সংক্রান্ত কাগজপত্রও জমা দেন তারা।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির প্রকৃত নিবন্ধিত নামের সঙ্গে একক মালিকানাধীন ফার্মের নাম সংযুক্ত করে নিবন্ধনের সনদ জমা দেন মো. গোলাম কিবরিয়া শামীম ও মো. ফজলুল করিম চৌধুরী। যদিও এর কোনো চুক্তির কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তারা। এর বাইরে নিবন্ধিত প্রকৃত শেয়ার সংখ্যার চেয়ে বেশি শেয়ার দেখানো এবং ১০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা ও টার্নওভার সংক্রান্ত দাখিল করা কাগজপত্রও ছিল জাল। এক্ষেত্রে কাজ বাগিয়ে নিতে জাল- জালিয়াতির আশ্রয় নেন তারা।
এর আগে, ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন জি কে শামীম। এরপর থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি।