জমির বিরোধে শিশু হত্যা, পাঁচজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শিশু হত্যা মামলায় পাঁচজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
বুধবার দুপুরে আসামিদের উপস্থিতিতে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এ রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় অপর দুই আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।
দণ্ডিতরা হলেন- উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের নাকাই গ্রামের মছির উদ্দীনের ছেলে মো. গোলজার খন্দকার ও মো. সাহেব খন্দকার, মো. সাহেব খন্দকারের ছেলে মো. হারুন খন্দকার, মো. গোলজার খন্দকারের ছেলে মো. ফরিদুল ইসলাম এবং জরিদুল ইসলাম।
.png)
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- মো. গোলজার খন্দকারের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও মো. সাহেব খন্দকারের স্ত্রী হালিমা বেগম।
আদালতের পিপি ফারুক আহমেদ প্রিন্স জানান, জমি নিয়ে নাকাই গ্রামের মো. জালাল উদ্দীনের সঙ্গে আসামিদের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নাকাইহাট বাজারে জালাল উদ্দীনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করেন আসামিরা। এর পরদিন জালাল উদ্দীনের মেয়ের জামাই আব্দুল বাকি ও ১৩ বছর বয়সী নাতি আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা চালান তারা। পরে স্থানীয়রা তাদের গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভতি করা হয়। সেখানে আরিফুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই আরিফুল মারা যায়।
এ ঘটনায় প্রতিবেশী গোলজারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আরিফুল ইসলামের নানা মো. জালাল উদ্দীন। মামলার তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেয়।