রানা প্লাজা ধসের ৮ বছর পূর্তি, সীমিত পরিসরে আয়োজন
ঢাকার সাভারের রানা প্লাজা ধসের আট বছর পূর্তি উপলক্ষে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে করোনার পরিস্থিতিতে এবার সীমিত পরিসরে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এতে নিহত শ্রমিকদের পরিবার, আহত শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো অংশ নেয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ কর্মসূচি। শনিবার সকালে রানা প্লাজার বেদিতে ফুল দেয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির শেষ হয়।
গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ নামের একটি সংগঠনের নেতাদের উদ্যেগে রানা প্লাজায় ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক নিহতের ঘটনায় ১ হাজার ১৩৮টি গোলাপ ফুল দিয়ে একটি পুষ্পাঞ্জলি তৈরি করে।
.png)
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রানা প্লাজার নিহত শ্রমিকদের অস্থায়ী বেদিতে সেই পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।
এর আগে, সকাল থেকে রানা প্লাজার সামনে আসতে শুরু করে নিহত শ্রমিকদের স্বজন, আহত শ্রমিকরা, শ্রমিক সংগঠনগুলো ও প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসনের বিধিনিষেধ থাকায় গত বছরও দিবসটি পালনে তেমন কোনো কর্মসূচি পালন করা হয়নি। এ বছর আবারো করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবসে বিশেষ কোনো কর্মসূচি নেই বলে জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।
শুক্রবার গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, নিহতদের স্মরণে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনের বেদিতে শুক্রবার মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শনিবার সকাল ৮টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, অন্যবার মাইক ও ব্যানার লাগিয়ে স্টেজ তৈরি করে হতো। করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতিতে আমরা এবার এগুলো করছি না।
সাভারের ইউএনও মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা শ্রমিক নেতাদের কাছে মেসেজ পৌঁছে দিয়েছি। মূলত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে প্রোগ্রামটি করার জন্য তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।
দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ এ ট্র্যাজেডি ঘটে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে। ঢাকার সাভারে রানা প্লাজার নয় তলা ভবন ধসে সরকারি হিসাবে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক। আরো প্রায় দুই হাজার শ্রমিক আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর দিনযাপন করছেন।