বিভিন্ন সমস্যার কারণে তারা এখন এসব পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। এখন আগের মতো আর জৌলুস নেই এখন পশ্চিম ঝালকাঠির গামছার তাঁতগুলোতে। বিপুল সংখ্যক পরিবারকে এখন জেলার হাইলাকাঠি গ্রামে দেখা যায়না পাটি কুনতে, চুন শিল্পে রয়েছে মাত্র দুটি পরিবার।

.png)
৫০ বছর আগেও ২০-২৫টি পরিবার দাপটের সঙ্গে চুন তৈরি করে সরবরাহ করতো গোটা দক্ষিণাঞ্চলে। শহরের প্রধান দুটি সড়কের নাম কামারপট্টি ও কুমারপট্টি হলেও এখানে এখন আর কামারের দোকান দেখা যায় না। কুমারপট্টিতে কুমারের দোকান রয়েছে মাত্র দুটি। অথচ বৃটিশ শাসনামল থেকেই এ দুটি শিল্প ছিলো ঝালকাঠির অন্যতম ঐতিহ্য।

শহরের কুমার পট্টিতে কুমারেরা মাটির তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র সাজিয়ে সড়কের দুপাশে বসে থাকতো। ২০টির মতো কামারের দোকান থাকলে এখন ৫-৬টি দোকান রয়েছে দা বটি তৈরির। কাঁচামাল সংকটে শঙ্খ শিল্পও যায় যায় অবস্থা । মাত্র ২-৩টি পরিবার এখন শাঁখা শিল্পে কাজ করে।

প্লাস্টিক সামগ্রীর জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় ঝালকাঠির ঐত্যিবাহী কাশাঁরী পট্টির কাসা পিতলের তৈরির আর্কষণীয় পণ্য এখন আর চলে না। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা ঝুঁকে প্লাস্টিক সামগ্রীর দিকে। কুমার শিল্পের কারিগররাও জানালেন একই কথা। তারাও বলছেন প্লাস্টিক পণ্যের জনপ্রিয়তা ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে তাদের মাটির তৈরি পণ্য এখন আর কেউ কিনতে চায় না। এছাড়া মাটি ও রঙের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা এখন আর উৎপাদনে যেতে পারছেন না। বাইরে থেকে পণ্য কিনে এনে বিক্রি করছেন।

চুন শিল্পের কারিগররা জানান, শামুকের সঙ্কটসহ কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধিতে এখন তারা হতাশ। এছাড়া তারা কোনো ঋণও পাচ্ছেন না। গামছা তৈরির কারিগররাও জানালেন তারা সহযোগী শ্রমিক পাচ্ছেন না এবং সুতার মূল্য বৃদ্ধির কথা। ঝালকাঠির বিখ্যাত গনি মিয়ার গামছার তাঁতটিই এখন টিকে আছে সংগ্রাম করে।

শীতল পাটি তৈরির নিপুণ কারিগর পাটিকররা জানান, আগে এ পেশা ছিলো জমজমাট। এখন অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। এদিকে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে পৃষ্ঠপোষকতা করার প্রতিষ্ঠান বিসিক থেকে এসব শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা অনেকেই ঋণ পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। তাই তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না। এসব শিল্পের কারিগরদের দাবি স্বল্প সুদে ঋণ পেলে তারা আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন। তবে বিসিক কর্তৃপক্ষ বলছেন অন্য কথা।

তারা বলছেন, ঝালকাঠিতে কুটির শিল্পের মধ্যে অনেকগুলো আছে, যারা বিসিকের নিবন্ধিত নয়। তাই তারা তাদের সহায়তা দিতে পারছেন না।

বিসিক ঝালকাঠির উপ-ব্যবস্থাপক মো. শাফাউল করিম বলেন, এসব কুটির শিল্প ঝালকাঠির ঐতিহ্য। এগুলো এখন বিলীনের পথে রয়েছে। এর মধ্যে কামার, কুমার, শঙ্খ আরো দু একটি আমাদের নিবন্ধিত নয়। তবে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধিত করে তারা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সে ব্যাপারে ঋণ বা সহায়তা করার ব্যবস্থা করা হবে।