ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক, ভোগান্তি চরমে

প্রদীপ কুমার দেবনাথ, বেলাব, নরসিংদী
প্রকাশিত: ১১:২৪, ১৭ নভেম্বর ২০২১
সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক, ভোগান্তি চরমে
ব্রিজের দুই পাশে সরু সড়ক থাকলে নেই সংযোগ সড়ক

চারপাশে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। মাঝখানে স্থির দাঁড়িয়ে আছে একটি ব্রিজ। ব্রিজের দুই পাশে সরু সড়ক থাকলে নেই সংযোগ সড়ক। নির্মাণের ১৬ বছর পরও সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে।

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার পাটুলী ইউনিয়নে ভাবলা, বাঘিবাড়ি, আকানগরের সংযোগস্থলে এ সেতুর অবস্থান। গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজ নির্মাণের পর এলাকাবাসীর বহু আবেদনেও সাড়া নেই সংশ্লিষ্টদের। মূলত মনোহরদী-বেলাব দুই উপজেলার বাসিন্দারা যাতায়াত করেন এ ব্রিজ দিয়ে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন শিক্ষার্থীরা।

২০০৫-২০০৬ অর্থ বছরে নির্মিত হয় ব্রিজটি। ১৬ বছর আগে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে ব্রিজের ওপর দিয়ে কোনো ধরনের যান চলাচল করতে পারে না। এমনকি নারী, শিশু, বৃদ্ধরা এ ব্রিজের ওপর দিয়ে না গিয়ে পাশে জমি দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করেন। বর্ষায় অবস্থা হয়ে উঠে বেগতিক। সংযুক্ত আইলগুলো এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ব্যাপক কাদা, পিচ্ছিল আর চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠে। নিকটবর্তী শিক্ষার্থীরা  ও সাধারণ মানুষদের তখন দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। 

Advertisement

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ভাবলা, দাপুনিয়া, পাশ্ববর্তী উপজেলার আকানগর, বাঘিবাড়ি ও চুলাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষসহ এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। এই সেতুটি গঙ্গাজলি নদীর উপর। নদীর পাড় সংলগ্ন এ রাস্তা ব্যবহার করে শত শত কৃষকের ফসল ঘরে তুলতে হয়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের।

ওই এলাকার আঙ্গুর মিয়া নামে স্থানীয় এক কৃষক বলেন, সেতুর সঙ্গে কোনো রাস্তা না থাকায় জমি থেকে ধান কেটে বাড়ি নেওয়া যায় না। অতিরিক্ত শ্রমিক দিয়ে মাথায় করে বাড়িতে আনতে হয় ফসল।

স্থানীয় বাঘিবাড়ি মাহমুদা মতিউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান সৈয়দ রাকিবুর রহমান বলেন, আমাদের স্কুলের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। সংযোগ সড়কের অভাবে ছাত্রছাত্রীরা অনেক কষ্ট করে স্কুলে আসে।

উপজেলার পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইফরানুল হক ভূঁইয়া জামান বলেন, জনগণের জন্য ব্রিজটি নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ সুফল পাচ্ছেন না। আমি শিগগিরই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

এ ব্যাপারে সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ১৬ বছর আগে নির্মিত এ ব্রিজটি সম্ভবত আইডিভুক্ত নয়। কারণ তখন সেতু নির্মাণ হলেও রাস্তা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এখন আইডিভুক্ত করে এর ব্যবস্থা করতে হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!