২০১৭ সালের ৩০ মে ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে নোঙর ছিঁড়ে পারকি সমুদ্র সৈকতে আটকা পড়ে ক্রিস্টাল গোল্ড।
অনেক চেষ্টা করেও জাহাজটি সরিয়ে নিতে পারেনি মালিকপক্ষ। পরবর্তীকালে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান জাহাজটি কিনে নেয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিয়ে জাহাজটি কাটা শুরু করেছে নতুন মালিকপক্ষ।
.png)
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সমুদ্র সৈকতে আটকা পড়া জাহাজটি কাটা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিয়ে শনিবার থেকে পরিবেশবান্ধব উপায়ে জাহাজটি কাটা হচ্ছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক পরিবেশবান্ধব উপায়ে জাহাজটি কাটার জন্য অনেকগুলো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। যেহেতু এটা পর্যটন স্পট, সেজন্য বলা হয়েছে, পর্যটকরা যাতে জাহাজটির কাছাকাছি যেতে না পারে। কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। সেজন্য চারদিকে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জাহাজটি কাটার কাজ শুরুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের বিরূপ মন্তব্য শুরু করছেন পর্যটকরা।
তাদের মতে, জাহাজটি পারকি সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছিল। দূরদূরান্ত থেকে এ জাহাজ দেখতে পর্যটকরা পারকি সৈকতে ভিড় জমাতেন। জাহাজটি আটকা পড়ার পর থেকে যেসব পর্যটক পারকির রূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছে তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই পাওয়া যাবে যারা জাহাজটির সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হয়নি।
সাহানো মৌরি নামের এক পর্যটক বলেন, ক্রিস্টাল গোল্ড জাহাজটির সঙ্গে অনেক স্মৃতি রয়েছে। পারকিতে এসে জাহাজটি আর দেখব না ভাবতেই খারাপ লাগছে। জাহাজটি ছাড়া পারকি সৈকত ফাঁকা ফাঁকা লাগবে।
তবে রাসেল আহমদ নামের স্থানীয় যুবক বলেন, জাহাজটির কারণে বেড়িবাঁধের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। এখন জাহাজটি কেটে নেয়ায় আমরা খুশি।
পরিবেশবাদী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মঞ্জিল মোর্শেদ বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের যে শর্তগুলো রয়েছে সেগুলো মেনে জাহাজটি কাটলে পরিবেশের ওপর তেমন একটা প্রভাব পড়বে না।
পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মফিদুল আলম বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিয়ে জাহাজটি কাটা হচ্ছে।