বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল পিবিআইয় পুলিশ সুপার সিরাজ আল মাসুদ প্রেস বিফিং এ তথ্য জানিয়েছেন। অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধারের পর ক্লু-লেস মামলার তদন্ত শেষে ওয়াসিমকে গ্রেফতারের পর হত্যা রহস্য উন্মোচন করে পিবিআই।
মৃত নাজমা বেগম ভোলা জেলার লালমহন থানার দেবীর চর বেরীবাঁধ হাওলাদার বাড়ির আব্দুর রহমানের মেয়ে। গ্রেফতারকৃত স্বামী ওয়াসিম দিনাজপুর জেলার খানসামা থানার ডাঙ্গারপাড়া এলাকার ইছাহকের ছেলে। বুধবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
.png)
সিরাজ আল মাসুদ জানায়, উপজেলার আজগনা ইউনিয়নের ঘাগড়া এলাকার একটি কলাবাগানে ১৭ ডিসেম্বর অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। পরে পিবিআই টাঙ্গাইল জেলা হত্যা মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্য প্রযুক্তি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকারী নিহতের স্বামী ওয়াসিমকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালে মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যানের পাশে একটি ইট ভাটায় কাজ করার সময় নাজমা বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয়। ইট ভাটায় কাজ করার সময় নাজমার সঙ্গে ওয়াসিমের প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। পরে ২০২০ সালে করোনার কারণে ইট ভাটার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তখন ওয়াসিম নিজ এলাকা দিনাজপুর চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ কথা শুনে নাজমা ওয়াসিমকে ঢাকা উদ্যানে দেখা করার কথা বলেন। পরে নাজমার ভাড়া করা বসায় নিয়ে যান। সেখানে ওয়াসিমের সঙ্গে নাজমার সঙ্গে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়।
এরপর চলতি মাসের ১১ ডিসেম্বর মির্জাপুর ইট ভাটায় নাজমা বেগম ওয়াসিমের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সেখানে দুজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাজমা তাকে দেনমোহরের তিন লাখ টাকা ও ডিভোর্স চান। তা না হলে মামলা করার ভয় দেখান। পরে নাজমাকে ইট ভাটার পাশে কলাবাগানে নিয়ে যান ওয়াসিম। সেখানে নাজমার ওড়না দিয়েই শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। লাশ গুম করার জন্য কলাবাগানের ভেতর মাটি চাপা দিয়ে পালিয়ে যান।