ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু, বর্ণনা শুনে কাঁদলেন উপজেলা চেয়ারম্যান

মীরসরাই প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩:০৭, ২৭ ডিসেম্বর ২০২১
হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু, বর্ণনা শুনে কাঁদলেন উপজেলা চেয়ারম্যান
মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স; ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যকর্মীদের অবহেলায় হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর বিবরণ শুনে কাঁদলেন মীরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও। সেইসঙ্গে শিশু মৃত্যুর অভিযোগের বিচার চাইলেন উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন নিজেও।

সোমবার বেলা ১১টায় মীরসরাই উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা সভায় শোকার্ত মৃত শিশুর মা-বাবার অশ্রুসিক্ত নয়নে সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীদের অবহেলার বর্ণনা তুলে ধরেন।

গত শনিবার সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যায় এক বছর পাঁচ মাসের শিশু অভিজিৎ দাস।

Advertisement

শিশুটির বাবা চরণ দাস (৩৫) ও মা পিংকী দাস (২৮) সোমবারের আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বলেন, ঘটনার দুই দিন আগে আমার ছেলেকে পাতলা পায়খানাজনিত সমস্যার জন্য একমাত্র উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করি। হাসপাতালে নার্স ও চিকিৎসকরা আমার শিশুটির একটু খেয়াল বা যত্ন তো দূরের কথা খোঁজ ও নিত না। একটা স্যালাইন লাগাতে ও খুলতে হলেও নার্সদের অনেক অনুরোধ করতে হতো।

তারা বলেন, মৃত্যুর দিন সকালে আমরা বারবার নার্সদের অনুরোধ করছিলাম শিশুটি কাতরাচ্ছে একটু দেখতে। স্যালাইনটা শেষ একটু খুলে দিতে। কিন্তু নার্সরা দেখতো তো আসে নাই বরং তাদের রুমে নিয়ে স্যালাইন খুলে নিতে বলে। উপায়ন্তর না দেখে আমাদের প্রাণের শিশুকে নিয়ে নার্সদের রুমে নিয়ে গিয়ে স্যালাইনটি খোলাই। কোনো ওষুধ বা খাবার তো দূরের কথা কোনো ডাক্তার নার্স পরামর্শ পর্যন্ত দেয়নি। বরং কথা বলতে গেলেও দুর্ব্যবহার করতো।

অবশেষে অনাদর অবহেলা নিয়েই শনিবার সকাল ১০টায় শিশু অভিজিৎ মৃত্যুর কাছে হার মানে। এ ঘটনার জন্য একটি পর্যায়ে ওই শিশুর গ্রাম দুর্গাপুরের সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে এমন ঘটনার বিচার দাবি করলে উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন তাদের সোমবার উপজেলার আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত হয়ে এর বিচারের দাবি জানাতে বলেন।

একইসঙ্গে উক্ত সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান নিজে ও স্বাস্থ্য প্রশাসন ও নির্বাহী অফিসারের কাছে উক্ত ঘটনার বিচার দাবি করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিনহাজুর রহমানকেও অশ্রুসিক্ত নয়নে নির্বাক হয়ে উক্ত ঘটনার সহমর্মিতা প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

উপস্থিত সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাহেদা বেগম বলেন, এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ঘটনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে শিশুটিকে অবহেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নার্স ও চিকিৎসকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও শিগগিরই এর উপযুক্ত বিচার হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!