রোববার দুপুরে হাসপাতালের মিলন হলে তাদের শুভেচ্ছা জানান তত্ত্বাবধায়ক মো. ওয়াহীদুজ্জামান।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রানা নুরুস শামস, ডা. হিমেল খাঁন, ফৌজিয়া আক্তার, আইরিন হক, জিনান রেজা, শারমিন হক, লুৎফুর নাহার, শামীমা রহমান, ফাইজুর রহমান ফায়েজ, আক্তার হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, তৌহিদ আহমেদ, খোকন দেবনাথ, ভারপ্রাপ্ত উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক গীতা রানী সাহাসহ গাইনি, শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডের নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।
.png)

জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ১০৯ জন অন্তঃসত্ত্বা নারীর সাধারণ প্রক্রিয়ায় সন্তান প্রসব করেন। আর ৮৪ জন অন্তঃসত্ত্বা নারী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন।
আরো পড়ুন >>> অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড: পপির সন্ধান মেলেনি আটদিনেও
গাইনী ও স্ত্রী রোগের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (সিনিয়র কনসালটেন্ট) ফৌজিয়া আক্তারের নেতৃত্বে ছয়জন নারী চিকিৎসকের একটি দলের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে কর্মরত ১১ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সদের মাধ্যমে সাধারণ প্রক্রিয়ায় সন্তান প্রসবের কাজটি করে থাকেন।
গত অক্টোবর মাসে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ১০৮ জন অন্তঃসত্ত্বা নারীর সাধারণ প্রক্রিয়ায় সন্তান প্রসব করেন। আর ৮৭ জন অন্তঃসত্ত্বা নারী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন। নভেম্বর মাসে ১০৫ জন অন্তঃসত্ত্বা নারীর সাধারণ প্রক্রিয়ায় সন্তান প্রসব করেন। আর ৯২ জন অন্তঃসত্ত্বা নারী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন। গত অক্টোবর মাসে হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স স্মৃতি রানী রায় ৩০ জন, নেহেরা আক্তার খাতুন ২৪ জন ও মর্জিনা বেগম ২২ জন অন্তঃসত্ত্বা নারীর প্রসব করিয়েছেন।

নভেম্বর মাসে সাধারণ প্রক্রিয়ায় সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স স্মৃতি রানী রায় ৩৮ জন, মর্জিনা বেগম ৩৫ জন ও আয়েশা বেগম ২৮ জনকে অন্তঃসত্ত্বা নারীর প্রসব করিয়েছেন। আর ডিসেম্বর মাসে কাউকে ব্যক্তিগত ভাবে শুভেচ্ছা উপহার না দিয়ে হাসপাতারের ১১ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়।
শুভেচ্ছা উপহার পাওয়া সিনিয়র স্টাফ নার্স স্মৃতি রানী রায় বলেন, যে কোনো কাজের স্বীকৃতি পেলে কাজের উৎসাহ বাড়ে। গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে প্রথম হয়েছি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান প্রসব করে। শুভেচ্ছা উপহার দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
গাইনী ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফৌজিয়া আক্তার বলেন, সাধারণ প্রক্রিয়ায় সন্তান প্রসবে নার্সদের উদ্বুদ্ধ করতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে শুভেচ্ছা উপহার দিয়ে অনুপ্রাণিত করেন। গত দুই মাস শুধু মাত্র তিন জন সিনিয়র নার্সকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হতো, কিন্তু ডিসেম্বর মাসে ১১ জন সিনিয়র নার্সকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়।
তিনি আরো বলেন, আমরা চাই প্রতিটি অন্তঃসত্ত্বা নারী তাদের সন্তান প্রসবের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চলে আসবে। বাসা-বাড়িতে কোনো ডেলিভারি করা একেবারেই ঠিক নয়। এতে মা ও শিশুর যেকোনো সমস্যা হতে পারে, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা নরমাল ডেলিভারির জন্য সুব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে এসে কোনো দালালের খপ্পরে না পড়ে, নিজেরা হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চলে আসলে সন্তান প্রসবে সুব্যবস্থা পাবে। তিনি আরো বলেন, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ৩২২ জন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে সাধারণ প্রসব করানো হয়েছে।